খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে মাঘ ১৪৩২ | ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকার বাংলা শিল্পপল্লীতে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “যাত্রার আনন্দময় গান”, যা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিশীল জীবন ও শিল্পীজীবনের জটিলতাকে উদযাপন করেছে। সঙ্গীত, কবিতা ও আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি ঠাকুরের বহুমাত্রিক প্রতিভার এক সমৃদ্ধ দ্যোতক হিসেবে উপস্থিত হলো।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সঞ্চিতা রোকির হৃদয়গ্রাহী গায়কির মাধ্যমে, যেখানে তিনি পরিবেশন করেন “বনসিঙ্ঘা – গহন কুসুম কুঞ্জ মধ্যে”, গানটি প্রেম, বিশ্বাস ও মহত্ত্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। তিনি আরও পরিবেশন করেন “মাঝে মাঝে তোর দেখা পাই” এবং “হৃদয়ের একুল ওকুল”, যা মানুষের ক্ষণস্থায়ী আনন্দ ও অন্তর্দ্বন্দ্বের সূক্ষ্ম বর্ণনা তুলে ধরে। সমাপ্তি গান “আজ যত তারা তব আকাশে” আলো ও আশা বিক্ষিপ্ত করে, শ্রোতাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে।
এরপর ফাহিম হোসেন চৌধুরী মঞ্চে উঠে “কোথা হতে বাজে” এবং “জগতে আনন্দ জাগে” পরিবেশন করেন। প্রতিটি গানের আগে তিনি প্রাসঙ্গিক কবিতা আবৃত্তি করেন এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেন, যা দর্শকদের ঠাকুরের দর্শন ও দার্শনিক ভাবনার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।
অনুষ্ঠানটি আরও সমৃদ্ধ হয় গৌতম কুমার সরকার, রবিন্স চৌধুরী, অশোক কুমার সরকার, মো. নাসির উদ্দিন ও উস্তাদ মো. মনিরুজ্জামানের মতো দক্ষ সঙ্গীতজ্ঞদের কণ্ঠস্বর ও বাদ্যযন্ত্রের সহযোগিতায়। তাদের সঙ্গীত পরিবেশন প্রতিটি গানে গভীরতা ও আবেগের সঙ্গম ঘটায়।
নিচের টেবিলটি মূল পরিবেশিত গানের সংক্ষিপ্ত তথ্য ও বিষয়বস্তু তুলে ধরে:
| ক্র. নং | গান | পরিবেশক | মূল ভাবনা |
|---|---|---|---|
| ১ | গহন কুসুম কুঞ্জ মধ্যে | সঞ্চিতা রোকি | প্রেম ও বিশ্বাস |
| ২ | মাঝে মাঝে তোর দেখা পাই | সঞ্চিতা রোকি | ক্ষণস্থায়ী আনন্দ |
| ৩ | হৃদয়ের একুল ওকুল | সঞ্চিতা রোকি | দ্বিধা ও বিশ্বাস |
| ৪ | আজ যত তারা তব আকাশে | সঞ্চিতা রোকি | আশা ও আলো |
| ৫ | কোথা হতে বাজে | ফাহিম হোসেন চৌধুরী | জীবনের আনন্দের উৎস |
| ৬ | জগতে আনন্দ জাগে | ফাহিম হোসেন চৌধুরী | সৃষ্টিশীল আনন্দ |
| ৭ | নির্বাচিত বিভিন্ন গান | ফাহিম হোসেন চৌধুরী | জীবনের কাহিনী সঙ্গীতের মাধ্যমে |
“যাত্রার আনন্দময় গান” অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি এক চলমান যাত্রার মতো উপস্থাপিত হয়েছে। প্রতিটি গান মানুষের অভিজ্ঞতা, আনন্দ ও দার্শনিক প্রতিফলনের গল্প বলে। সন্ধ্যার শেষ নাগাদ দর্শকরা উপলব্ধি করেন যে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুধুমাত্র সুর নয়, বরং জীবন—যাত্রার প্রতিটি ধাপই আনন্দে ভরা।