খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: সৌদি আরব,অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশে এরই মাঝে শুরু হয়ে গেছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। আগামীকাল থেকে এই পবিত্র মাসটি শুরু হবে বাংলাদেশেও। তবে আবহাওয়ার জন্য এবার বেশ বেগ পেতে হবে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের। কারণ এবারের রমজান শুরু হচ্ছে মার্চ মাস থেকে। আর এদিকে বাংলাদেশে মার্চ মাস থেকেই শুরু হয় গ্রীষ্মকাল। চলবে মে মাস পর্যন্ত।
বিশেষজ্ঞরা জানান, গত কয়েক দশকের তুলনায় এখন উত্তপ্ত বৈশ্বিক তাপমাত্রা। যার প্রভাব টের পাওয়া যায় গ্রীষ্মের শুরুতেই। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে খরতাপে এবারও পুড়বে দেশের সমগ্র অঞ্চল। গত বছর খরতাপে বাংলাদেশে বিরাজ করেছিল টানা এক মাসের দাবদাহ। তাপমাত্রা ছাড়িয়েছিল ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কাজেই গরমের প্রথম মাসে শুরু হতে যাওয়া রমজান মাসেও আবহাওয়া নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে। এই মার্চ মাসে গরমের সাথে কাল বৈশাখি ঝড়, শিলা বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এপ্রিল মাস উষ্ণতম হওয়ায় মার্চ মাসের গরমটা বেশিই হয়ে থাকে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিকে মার্চ মাস নিয়ে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, চলতি বছর মার্চ মাসে দেশের গড় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকতে পারে ও বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিক হতে কিছুটা কম থাকতে পারে। এই মাসে বঙ্গপোসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। তবে তা বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই।
রমজান মাসের আবহাওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাস হচ্ছে আমাদের কালবৈশাখীর সময়। মার্চ মাসের গরমটা এপ্রিলের গরমের কাছাকাছি বলা যায়। এপ্রিল যেহেতু আমাদের উষ্ণতম মাস, সেহেতু মার্চ মাসে গরমটা বেশিই হয়। তবে এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি গরম থাকে। মার্চ থেকে গরমটা শুরু হয় বেশি। এপ্রিলে গিয়ে চূড়ায় পৌঁছায় এবং মে মাস থেকে তাপমাত্রা কমা শুরু হয়। আর জুন থেকে বর্ষাকাল শুরু হয়। মার্চ মাসে যেহেতু গরম থাকবে সুতরাং রমজানটা আমাদের সেভাবেই পালন করতে হবে।’
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘মার্চ মাসে যা বৃষ্টিপাত হবে সেটা হবে কাল বৈশাখি ঝড়ের মধ্যে। এই সময়ে অঝোর ধারায় বৃষ্টি সম্ভবই না। এটাই হলো ক্লাইমেট। শুধু কাল বৈশাখীর ঝড়ের সময় বৃষ্টি হবে। কাল বৈশাখী ঝড়ও যে আবার প্রত্যেকদিন হবে সেটারও কোনো গ্যারান্টি নেই। হয়তো সপ্তাহে কোনো এক জায়গায় একবার হতে পারে। আবার দুই-তিনটা জোনেও হতে পারে। আবারও কিছু জায়গা ঝড়-বৃষ্টি পাবেই না। যেমন অন্য জায়গায় ঝড়-বৃষ্টি হলেও নাটোরে হবে না। এরকম গ্যাপ পড়তে পারে। কাল বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি হলে সব জায়গায় প্রভাব পড়ে না। এই বৃষ্টি হলে সুবিধা হচ্ছে, যখনই বৃষ্টিপাত হয়, তখন বজ্রপাত হয়, বাতাস থাকে এবং যেই জায়গায় ঝড়-বৃষ্টি হবে সেখানে তাপমাত্রা কমে আসে। এ ছাড়া কাল বৈশাখী ঝড় হলে শিলা বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়ে থাকে। তবে সব কাল বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে শিলা বৃষ্টি হয় না।
সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি এবং ঘূর্ণিঝড় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ সময়ে ঘূর্ণিঝড়ও তৈরি হয়। মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাস হলো আমাদের ঘূর্ণিঝড়ের সময়। এই সময়ে সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্য যেকোনো সময়ের চাইতে বেশি থাকে।’
মার্চ মাসের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ কত হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, ‘মার্চ মাসে যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে দেশের বেশিরভাগ জায়গার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকতে পারে। ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলেই আমরা সেটাকে তাপপ্রবাহ বলে থাকি। মার্চ মাসে তাপপ্রবাহ হতে পারে এটা নিশ্চিত। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি তাপপ্রবাহ হয়। গত বছরের এপ্রিলে শুরু হয়ে মে মাস পর্যন্ত প্রায় এক মাস ৫ দিন তাপপ্রবাহ ছিল। যেহেতু বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে গেছে, সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই তাপমাত্রা আরো বাড়বে।
খবরওয়ালা/টিএ