খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
রাজধানীতে চাঁদাবাজি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও দাগী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে মহানগর পুলিশ নতুন করে বিস্তৃত তালিকা প্রস্তুত করেছে। তালিকাটি বর্তমানে যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে এবং শীঘ্রই অভিযানের কৌশল নির্ধারণের পর মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর করা হবে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে এই উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মহানগর পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, অভিযানের পরিকল্পনা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে কোনোভাবেই তা ব্যর্থ না হয়। এজন্য অপরাধীদের অবস্থান, কার্যক্রম ও সহযোগী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষভাবে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে এক বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তিনি বলেন, এই অভিযান প্রথমে রাজধানী থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতি ফিরিয়ে আনা হবে।
মহানগর পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, তালিকায় শীর্ষ পর্যায়ের ১৪০ জন চাঁদাবাজের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও পরিবহন কেন্দ্র থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এসব নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে কাওরান বাজার, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় চাঁদাবাজদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
নিচের সারণিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকার চাঁদাবাজদের আনুমানিক উপস্থিতি তুলে ধরা হলো—
| এলাকা | চিহ্নিত চাঁদাবাজের আনুমানিক সংখ্যা | প্রধান অভিযোগের ধরন |
|---|---|---|
| কাওরান বাজার | প্রায় ৩৫ জন | বাজার ও পাইকারি ব্যবসায় চাঁদা আদায় |
| মোহাম্মদপুর | প্রায় ৩০ জন | নির্মাণকাজ ও স্থানীয় ব্যবসায় চাঁদা |
| মিরপুর | প্রায় ৪০ জন | পরিবহন ও দোকানপাট থেকে চাঁদা |
| পল্লবী | প্রায় ২৫ জন | বাজার ও আবাসিক এলাকায় চাঁদাবাজি |
| অন্যান্য এলাকা | প্রায় ১০ জন | বিভিন্ন ধরনের চাঁদা আদায় |
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই তালিকাভুক্ত অপরাধীদের তথ্য, ঠিকানা ও অপরাধের ধরনসহ উপ-পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দিয়েছেন। পরবর্তীতে তা যাচাই-বাছাই করে মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই অভিযান শুরু হবে।
একজন থানাপ্রধান জানান, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের চলাচল ও কার্যক্রম নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে, যাতে অভিযান শুরু হলে দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা যায়। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
প্রথম পর্যায়ে রাজধানীতে অভিযান চালানো হবে এবং পরে দেশের অন্যান্য জেলায় চিহ্নিত এলাকায় একই ধরনের তালিকা তৈরি করে অভিযান সম্প্রসারিত করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, তালিকা তৈরি ও অভিযানে কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না এবং শুধুমাত্র প্রকৃত অপরাধীদেরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারের লক্ষ্য হলো দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ দমন ও জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই পরিকল্পিত অভিযান সফল হলে রাজধানীর চাঁদাবাজি ও অপরাধ পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে।