খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ মে ২০২৫
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. এমএম শরীফুল করিমের কক্ষ যেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) অস্থায়ী কার্যালয়ে রূপ নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও নিয়মিতভাবে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সেখানে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার, শাফায়েত সজলসহ নেতারা নিয়মিত ওই কক্ষে যাতায়াত করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করেন। সেখানে ক্যাম্পাস রাজনীতি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনাও হয় বলে জানা যায়।
বিশেষভাবে ১৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রদল নেতারা অধ্যাপক শরীফুল করিমের কক্ষে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। এর পরদিন ১৫ মে বিএনপি-সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউট্যাব’-এর কুবি শাখা গঠিত হলে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাহিন উদ্দিনকে ওই কক্ষে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় ছাত্রদল নেতারা।
তখন উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার, সাইদুল ইসলাম শাওন, শাফায়েত সজল এবং আহ্বায়ক সদস্য মোতাসিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত।
বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ওই কক্ষে নিয়মিত ছাত্রদল নেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ে, যাদের অনেকেরই ছাত্রত্ব নেই। তারা বিভাগের শিক্ষার্থী না হওয়ায় আমরা বিব্রত বোধ করি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “আওয়ামী সরকারের সময় স্যারের যেটুকু নিরপেক্ষ অবস্থান ছিল, এখন সেটা নেই। তিনি এখন রাজনৈতিকভাবে ছাত্রদলের একপক্ষের হয়ে কাজ করছেন। আমরা মনে করি, তিনি এখন ফুলটাইম রাজনীতিবিদ, পার্টটাইম শিক্ষক।”
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ইংরেজি বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “আমি এই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তাই স্বাভাবিকভাবে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে যাই। আমরা আন্দোলনের সময়ও সক্রিয় ছিলাম, এখনো সম্পর্ক রক্ষা করছি।”
অধ্যাপক শরীফুল করিম বলেন, “শুভ আমার সাবেক ছাত্র। ছাত্রত্ব না থাকলেও বিভাগের সঙ্গে সে জড়িত। আমার কক্ষে ছাত্রদল ছাড়াও অন্য দলের ছাত্ররাও আসে। আমি রাজনৈতিক কার্যক্রম করছি না, কেউ যদি তা মনে করেন, সেটা তাঁদের বিষয়।”
ইউট্যাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইউট্যাব কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়, পেশাজীবী সংগঠন। মাহিন পাশের বিভাগের শিক্ষক, ছাত্রদলের নেতারা শুভেচ্ছা জানিয়েছে—তাতে সমস্যা দেখছি না।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ। একজন শিক্ষকের কক্ষে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কাম্য নয়। কেউ অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
উল্লেখ্য, অধ্যাপক শরীফুল করিমের বিরুদ্ধে আগেও শিক্ষক হেনস্তা, নিয়োগে অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এবার তার কক্ষ ছাত্রদলের ‘আড্ডা কেন্দ্র’ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ শিক্ষকদেরই একাংশের।