1
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ী জেলায় এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জেলা স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয়েছে এক কর্মচঞ্চল “নির্বাচন কন্ট্রোল রুম”-এ। সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে চলছে ভোটগ্রহণ সামগ্রী বিতরণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
স্টেডিয়ামে দেখা গেছে, প্রিজাইডিং অফিসাররা সারিবদ্ধভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। ব্যালট পেপার ব্যতীত সকল প্রয়োজনীয় সামগ্রী—ব্যালট বাক্স, সিল ও স্ট্যাম্প, ভোটার তালিকা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাগজপত্র—নিয়ে তারা দ্রুত ছুটে যাচ্ছেন নিজ নিজ কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে। প্রত্যেকের লক্ষ্য স্পষ্ট: নির্ধারিত সময়মতো ভোটগ্রহণ শুরু করা।
স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে ছিল কড়া শৃঙ্খলা ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে ছিল আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা। দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান,
“প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। কোনো বিশৃঙ্খলা যেন না ঘটে এবং বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন—সেবিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব।”
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজনেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক এবং স্থানীয় প্রশাসনও রাজবাড়ীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সদা প্রস্তুত। যদিও কিছু কেন্দ্রকে বাড়তি নিরাপত্তার আওতায় আনা হতে পারে, তবে এ মুহূর্তে কোন কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।
রাজবাড়ীর নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তার সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| কেন্দ্রের সংখ্যা | প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত |
| প্রিজাইডিং অফিসার | প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত |
| নিরাপত্তা | আনসার, ভিডিপি ও স্থানীয় পুলিশ মোতায়েন |
| ভোটার সহায়তা | বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য ব্যবস্থা |
| ভোটগ্রহণ সময় | নির্ধারিত সময়মতো শুরু হবে |
| সামগ্রী বিতরণ | ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্প, ভোটার তালিকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র |
রাজবাড়ীতে এখন একটাই প্রত্যাশা—উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হচ্ছে গণতন্ত্রের মহাযজ্ঞ, যেখানে প্রতিটি ভোটারই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে। জেলা প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন আশা করছে, ভোটগ্রহণ শেষে রাজবাড়ী হবে দেশের এক শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ নির্বাচনী উদাহরণ।