খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে কার্তিক ১৪৩২ | ৬ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহীতে বাড়ছে এইচআইভি (এইডস) সংক্রমণ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নতুন করে ২৮ জনের দেহে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, একই সময়ে একজনের মৃত্যু ঘটেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সমকামী সম্পর্কের মাধ্যমেই এইচআইভি সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি বাড়ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানো এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বিশেষ ট্রিটমেন্ট সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রামেকের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১২ হাজার ৪৬৪টি নমুনা পরীক্ষায় ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ১ জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি। আক্রান্তদের বেশিরভাগের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এ সময় পর্যন্ত এইচআইভি-তে মারা গেছেন আটজন।
২০১৯ সালে রামেকে এইচআইভি পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম বছর কোনো সংক্রমণ ধরা না পড়লেও ২০২০ সালে ২ জন, ২০২১ ও ২০২২ সালে ৮ জন করে, ২০২৩ সালে ২৪ জন, ২০২৪ সালে ২৭ জন এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২৮ জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে শনাক্ত ২৭ জনের মধ্যে ১৬ জন এবং চলতি বছরের ২৮ জনের মধ্যে ১৭ জনই সমকামী সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়া যৌনকর্মীদের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন ১০ জন এবং রক্তের মাধ্যমে ১ জন।
সংক্রমিত এক ব্যক্তি বলেন, “এইচআইভি পজিটিভ জেনে মনে হয়েছিল জীবন শেষ হয়ে গেছে। পরে রামেকে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বুঝতে পারি, নিয়মিত ওষুধে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে রাজশাহীতে ওষুধ না থাকায় বগুড়ায় যাওয়া কষ্টকর। এখানেই চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে স্বস্তি পেতাম।”
বর্তমানে রামেকে শুধুমাত্র পরীক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের সুবিধা থাকলেও চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য রোগীদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। এ কারণেই রামেকে ট্রিটমেন্ট সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম শামীম আহাম্মদ জানান, “এইচআইভি রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ট্রিটমেন্ট সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে। এটি চালু হলে রোগীদের আর বগুড়ায় যেতে হবে না।”
রামেক এইচটিসি সেন্টারের ফোকাল পারসন ডা. ইবরাহীম মো. শরফ বলেন, “অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক—হোক নারী-পুরুষ বা পুরুষ-পুরুষের মধ্যে—এইচআইভি সংক্রমণের প্রধান উৎস। মা থেকে শিশুর শরীরেও এটি ছড়াতে পারে। তাই প্রতিরোধের একমাত্র উপায় সচেতনতা।”