রাজশাহীর পবা উপজেলার ধরমপুর গ্রামে নিখোঁজ হওয়া ১১ বছর বয়সী স্কুলছাত্র আদিবের মরদেহ সোমবার সকাল সাতটার দিকে একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১১ ঘণ্টা পর এই ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
নিহত আদিব ধরমপুর গ্রামের রানার ছেলে। রানা পেশায় ফার্মেসি ব্যবসায়ী। আদিব স্থানীয় একটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার পরিবার জানিয়েছে, গত রাত্রি পৌনে ৯টার দিকে তারা আদিবকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সকালে গ্রামের লোকজন ধানক্ষেতে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করেন।
ঘটনা সংক্ষেপ
| সময়সূচি | ঘটনা |
|---|---|
| ২ মার্চ রাত ৮:৪৫ | আদিব নিখোঁজ হয় |
| ৩ মার্চ সকাল ৭:০০ | ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার |
| সকাল ৭:৩০ | কর্ণহার থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে |
| পরবর্তী সময় | পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে |
কর্ণহার থানা পুলিশের ওসি হাবিবুর রহমান জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ময়নাতদন্তের ফলাফলের পরই মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, তারা প্রাথমিকভাবে প্রাসঙ্গিক থানায় মামলা দায়ের করবেন। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করছে এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ধরমপুর গ্রাম সাধারণত শান্তিপূর্ণ হলেও এই ঘটনায় পুরো এলাকা শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। গ্রামের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আতঙ্কে রয়েছেন এবং তারা চাচ্ছেন দ্রুত সত্য উদঘাটন হোক।
নিখোঁজ শিশুর মৃত্যুর এই ঘটনায় প্রশাসন ও স্থানীয় সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পুলিশি নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এভাবে, একক পরিবারের দুঃখের পাশাপাশি পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসন বলছে, তদন্ত শেষে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়।
মোট আনুমানিক সময়কাল শিশুটি নিখোঁজ ও উদ্ধার: ১১ ঘণ্টা।