খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৪ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৬) কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে লিমন মিয়া। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিমন মিয়া বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের সামনে এই লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
এদিকে, লিমন মিয়া (৩৫) আটক হওয়ার সাতদিন আগে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসী (৪৪) নিরাপত্তার কারণে সিলেটের জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। তবে সেই জিডির তদন্ত এখনও শুরু হয়নি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে লিমন মিয়া সাংবাদিকদের সামনে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসীর সাথে তার পাঁচ বছরের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। লুসী তাকে পুলিশে দিয়েছে, জেলে ভরিয়েছে এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে। লুসী ফোন ধরলে না, তাই সে রাজশাহীতে তার বাসায় আসে। বাদাম ও পপকর্ণ দিয়ে স্বাগত জানালে লিমন তাকে টি-বাধে নিয়ে যেতে চাপায়। একপর্যায়ে লুসীর ছেলে এসে তাকে আঘাত করলে লিমনও প্রতিরক্ষা হিসেবে আঘাত করে। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি বলতে পারেননি। লিমন সরকার ও দেশের কাছে বিচার দাবি করেছেন।’
জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর করা জিডিতে তাসমিন নাহার লুসী উল্লেখ করেছেন, লিমন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য হওয়ায় তার সঙ্গে পরিচিত। তার পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় লিমন প্রায় সময় আর্থিক সহায়তা চাইত। সহায়তা না পেলে লিমন হুমকি দিত। ৩ নভেম্বর সকালে লিমন তার মেয়ের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ফোন করে পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়।
জালালাবাদ থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ মোবাশ্বির জানান, জিডি আদালতে পাঠানো হয়েছে, তবে এখনও তদন্তের অনুমতি পাওয়া যায়নি। বিচারক আব্দুর রহমানের মেয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। তাই লুসী সিলেটে থাকার সময় হুমকি পেয়ে থানায় জিডি করেন।
বিচারকের ছেলে সুমন রাজশাহী গভ: ল্যাবরেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পার্ক ভিউ ফ্ল্যাটে হামলায় নিহত হন। বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসীও আহত হন। হামলাকারী লিমন মিয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সুমনের মৃত্যু হয়েছে। তাসমিন নাহার লুসীর ডান হাত, উরু ও বাম বাহুতে গুরুতর জখম দেখা গেছে। লিমন মিয়ার হাতের জখম গুরুতর নয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হামলাকারীর পকেটে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সে চালক। তার সঙ্গে পূর্ববিরোধ থাকতে পারে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন