খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
রাজশাহীতে যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতাসহ মোট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১৮–২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন স্থানীয় এক ডেভেলপার ব্যবসায়ী।
মামলার বাদী মোস্তাফিজুর রহমান ‘গ্রিন প্লাজা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ নামের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি অভিযোগ করেছেন, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এজাহারে প্রধান আসামি করা হয়েছে রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোজাদ্দেদ জামানী সুমন (৪৮) এবং দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লিমনকে (২৬)।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক লিমন বলেন, ‘মোস্তাফিজের কাছে ২৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছেন আমিনুল ইসলাম নামে একজন ব্যক্তি, যিনি সুমন ভাইয়ের আত্মীয়। সেই টাকা আদায়ে থানায় আলোচনার জন্য বসা হয়েছিল। থানার ওসির উপস্থিতিতে সমঝোতা হয় যে, টাকা না দিতে পারলে মোস্তাফিজ একটি ফ্ল্যাট দেবেন। এখন ষড়যন্ত্র করে আমাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে যুবদল নেতা সুমন শুরুতে দাবি করেন, তিনি মোস্তাফিজুর রহমানকে চেনেন না। তবে পরে ফ্ল্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি, অনেকে আসে, কথা বলতে হয়। কিন্তু চাঁদার কোনো দাবির বিষয়টি সত্য নয়।’
লিমন ও সুমন অভিযোগ করেন, বাদী মোস্তাফিজ বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে সরকারের মদদে পরিকল্পিত মামলা করেছেন। তারা জানান, শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।
এদিকে মামলার বাদী মোস্তাফিজুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও তার স্ত্রী শাহীন আক্তার রেণীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করতেন। তার বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে।
মামলার বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদত হোসেন বলেন, ‘মামলার দিন আমি বাইরে ছিলাম, কেবল এজাহারটি দেখেছি। এরপর পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণে যাচ্ছি। ফিরে এসে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করব।’