খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজশাহীতে সম্প্রচার বন্ধ করে সভাস্থল ত্যাগ না করলে সাংবাদিকদের তালাবদ্ধ করে রাখার হুমকি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা। সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহী নগরীর পর্যটন মোটেলে এ ঘটনা ঘটে।
ওই ছাত্রনেতার নাম সোয়েব আহমেদ।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। নগরের আসাম কলোনি এলাকায় দুই নারীকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া লাইনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে ট্রেনে ঢিল ছোড়ার ঘটনাতেও তিনি জড়িত ছিলেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মহানগরের কয়েকজন নেতার সঙ্গে চলাফেরা করেন।
সাংবাদিকরা জানান, গত শনিবার এনসিপির রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরদিন রবিবার কমিটি থেকে একজন পদত্যাগ করেন। ওই রাতে কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামকে আওয়ামী দোসর আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করেন। এর মধ্যে সোমবার বিকেলে এনসিপির জেলার নবঘোষিত কমিটির পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়।
পরিস্থিতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিকেলে সাংবাদিকরা রাজশাহী পর্যটন মোটেলে যান। সেখানে কমিটির আরও পাঁচজন সাংবাদিকদের সামনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং সাইফুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেন। পরে সাংবাদিকরা পরিচিতি সভাস্থলে গিয়ে অভিযোগ বিষয়ে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। এমন সময় সোয়েব আহমেদ আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বলেন, “এখনই সাংবাদিকরা বের হয়ে যান, তা না হলে সবাইকে তালা মেরে রাখা হবে।” তিনি আরও কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা সাংবাদিকদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।
সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানালে সোয়েব দ্রুত সম্মেলন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। সাংবাদিকরাও পেছনে গিয়ে তাকে ঘিরে ধরে প্রতিবাদ জানান। উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে সোয়েব নিজ বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
এর আগে পরিচিতি সভাকালে সোয়েবসহ কয়েকজন তরুণ মোটেলের ভেতরে ঢুকে “অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন” স্লোগান দিতে থাকেন। মোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ভেতরে ৫৩ জন অতিথি আছেন এবং এমন স্লোগান অতিথিদের আতঙ্কিত করতে পারে। পরে তারা মোটেলের বাইরে চলে গিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তার কোনো আওয়ামী সম্পৃক্ততা নেই। তিনি পূর্বে জিয়া পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী বলেন, “ছেলেটা আমাদের সঙ্গে চলাফেরা করে, কিন্তু এনসিপিতে তার কোনো পদ নেই। সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা। বয়স কম, তাই এমন কথা বলে ফেলেছে।”
খবরওয়ালা/এসএস