খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৭ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফ্রান্সের তৈরি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমানের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত করতে চীন সক্রিয়ভাবে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ফরাসি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাফালের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করতে সমন্বিত বিভ্রান্তিকর প্রচার অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এর পেছনে রয়েছে চীন ও পাকিস্তান। এমনটাই জানাচ্ছে আলজাজিরা।
এই অভিযোগের সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের তীব্র সীমান্ত সংঘর্ষের পর। ওই সংঘাতে দুপক্ষের বহু যুদ্ধবিমান আকাশযুদ্ধে অংশ নেয়। তখন পাকিস্তান দাবি করে, তারা ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে তিনটি ছিল রাফাল।
ফরাসি সামরিক সূত্রগুলো বলছে, তাদের প্রাপ্ত তথ্যে ভারত তিনটি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে: একটি রাফাল, একটি রুশ নির্মিত সুখোই এবং একটি পুরোনো মিরাজ ২০০০। যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এই ঘটনাটি রাফাল যুদ্ধবিমানের প্রথম বড় ক্ষয়ক্ষতির রেকর্ড হওয়ায় ফ্রান্স আশঙ্কা করছে যে, এটি রাফালের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফরাসি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পরপরই রাফালবিরোধী প্রচারণা শুরু হয়। তারা বলছেন, চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে: সোশ্যাল মিডিয়ায় রাফালবিরোধী পোস্ট ভাইরাল করছে। এআই-নির্মিত ভুয়া ভিডিও প্রকাশ করছে। ভিডিও গেমের দৃশ্য ব্যবহার করে বাস্তব যুদ্ধের ভুয়া ফুটেজ ছড়াচ্ছে। ধ্বংস হওয়া রাফালের ভুয়া ছবি প্রকাশ করছে।
ফরাসি গোয়েন্দাদের দাবি, সংঘর্ষ শুরুর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এক হাজারের বেশি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়, যেগুলোর মাধ্যমে চীনের যুদ্ধবিমানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং রাফালকে অকার্যকর হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চলে।
ফরাসি কর্মকর্তারা আরও অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন দেশের চীনা দূতাবাস এই প্রচারণায় সরাসরি জড়িত। চীনের সামরিক অ্যাটাশেরা স্থানীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাফালের দুর্বলতা তুলে ধরছেন এবং তাদের চীনের তৈরি যুদ্ধবিমান কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। একজন ফরাসি সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, যারা ইতিমধ্যেই ৪২টি রাফাল অর্ডার করেছে এবং আরও কেনার চিন্তাভাবনা করছে, তারাই এই প্রচারণার প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাফালের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালানো হয়েছে, যার উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মনোভাব প্রভাবিত করা এবং চীনা যুদ্ধবিমানকে বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা। তারা আরও জানায়, রাফাল একটি বিশ্বমানের যুদ্ধবিমান, যা আধুনিক প্রযুক্তি ও বহু অপারেশনে সফলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
অন্যদিকে, চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ফ্রান্সের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীন সবসময় দায়িত্বশীলভাবে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করে এবং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী।
রাফাল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ৫৩৩টি রাফাল বিক্রি করেছে, যার মধ্যে ৩২৩টি গেছে বিভিন্ন বিদেশি গ্রাহকের কাছে— মিশর, ভারত, কাতার, গ্রিস, ক্রোয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সার্বিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাফালের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক ছড়ালেও, এর প্রযুক্তিগত দিক ও যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অনেক দেশকেই এখনও আকৃষ্ট করছে।
খবরওয়ালা/টিএস