খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর রামপুরা এলাকায় চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা এবং একই এলাকায় আরও দুজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী ৪ মার্চ ঘোষণা করা হবে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ঘটনাটি ছিল রাষ্ট্রীয় শক্তির ‘অতিরিক্ত ও উদ্দেশ্যমূলক বলপ্রয়োগ’-এর একটি গুরুতর উদাহরণ, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। আসামিপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন পলাতক এবং একজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
| ক্র. | নাম | পদবি (ঘটনাকালীন) | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ১ | হাবিবুর রহমান | সাবেক কমিশনার, ডিএমপি | পলাতক |
| ২ | রাশেদুল ইসলাম | সাবেক এডিসি, খিলগাঁও জোন | পলাতক |
| ৩ | মশিউর রহমান | সাবেক ওসি, রামপুরা থানা | পলাতক |
| ৪ | তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া | সাবেক এসআই | পলাতক |
| ৫ | চঞ্চল চন্দ্র সরকার | সাবেক এএসআই | গ্রেফতার, কারাগারে |
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন আমির হোসেন। রামপুরা এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলাকালে তিনি পড়ে যান এবং প্রাণ বাঁচাতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের চারতলায় আশ্রয় নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা তাঁকে অনুসরণ করে সেখানে পৌঁছে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে নিচে লাফ দিতে চাপ দেন। ভয় দেখাতে গুলি ছোড়ার পর আতঙ্কে আমির ভবনের বাইরে বেরিয়ে রড ধরে ঝুলে পড়েন।
এরপর তৃতীয় তলা থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি করা হয়; গুলিগুলো তাঁর দুই পায়ে লাগে। পুলিশ সরে গেলে গুরুতর রক্তক্ষরণ অবস্থায় তিনি তৃতীয় তলায় পড়ে যান। প্রায় তিন ঘণ্টা পর এক শিক্ষার্থী ও দুজন চিকিৎসকের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
একই দিনে ঘটনাস্থলের সামনে আরও দুজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, ঘটনাগুলো ছিল একই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ মামলার রায় ভবিষ্যতে আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের আইনি সীমা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে, কারণ এটি রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহারের নৈতিক ও আইনি মানদণ্ড নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে।