খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর দেড় বছরের নীরবতা ভেঙে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন। সোমবার দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড, ষড়যন্ত্র, এবং সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, “গত দেড় বছরে আমাকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আমি দৃঢ়চিত্তে আমার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম, তাই কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হয়নি।” তিনি আরও বলেন, অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তার বঙ্গভবনে কাটানো সময় সহজ ছিল না।
রাষ্ট্রপতি জানান, ২২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে বঙ্গভবন ঘেরাও হয়েছিল। বিভিন্ন দল, মঞ্চ ও সংগঠন রাতারাতি একত্রিত হয়ে হঠাৎ করে সক্রিয় হয়েছিল। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশন তিন স্তরে নিরাপত্তা দিয়েছে। এ সময় কিছু ভাড়াটিয়া হামলাকারী মেয়েটা কাঁটাতারের উপর উঠে ঝাঁপ দেয়, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ হয়, পরে তাঁরা মহিলা পুলিশ ও মহিলা সেনার মাধ্যমে তাড়ানো হয়।”
| তারিখ | ঘটনা | ভূমিকা/প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|
| ২২ অক্টোবর ২০২৪ | বঙ্গভবন ঘেরাও | সেনাবাহিনী তিন স্তরে নিরাপত্তা প্রদান |
| রাত ১২টা | ছাত্র আন্দোলনের নেতা ফোন | অননুমোদিত ব্যক্তিদের সরানোর চেষ্টা |
| রাত ২–৩টা | অবশিষ্ট গ্রুপ সরানো | অব্যাহত নিরাপত্তা তৎপরতা |
রাষ্ট্রপতি বলেন, “যদিও বিএনপি ও তার জোটসংগীরা রাজনৈতিক চাপের মুখে ছিলেন, তবুও তারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবিচল ছিল। তাদের সমর্থন আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমার সঙ্গে কোনো সমন্বয় করেননি। উনি ১৪–১৫ বার বিদেশ সফর করেছেন, একবারও আমাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে অবগত করেননি। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পর্কেও আমি কোনও তথ্য পাইনি। এটি স্পষ্টভাবে সাংবিধানিক দায়িত্বের লঙ্ঘন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাকে বিদেশ সফরে যেতে দেয়নি। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণেও বাধা ছিল। রাষ্ট্রপতির ছবি আন্তর্জাতিক মিশনে অচিরেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড ছিল আমার জনগণের কাছে এক্সপোজার বন্ধ করার প্রচেষ্টা।”
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের দৃঢ়তার পেছনে তিন বাহিনীর সমর্থন ও বিএনপির উচ্চপদস্থ নেতাদের আশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পরাজয় মানে পুরো বাহিনীর পরাজয়। তারা যেকোনো মূল্যে এটি রোধ করবে। এই সমর্থন আমার সাহস জুগিয়েছে।”
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই বিস্তৃত সাক্ষাৎকার দেশের রাজনীতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণ, ষড়যন্ত্র, এবং সাংবিধানিক অগ্রগতির ওপর এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করছে। এতে দেখা যায়, কঠিন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।
এই সাক্ষাৎকার দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি চরম অন্তর্দৃষ্টি হিসেবে গণ্য হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি নিজের অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ প্রকাশ করেছেন।