ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত থাকার দায়ে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ছয় নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এ বি এম সালাউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোনো প্রকার বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন করা বা তার পক্ষে কাজ করা গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুন্সি আমান মিয়া, দপ্তর সম্পাদক জুয়েল আলী, প্রচার সম্পাদক জুনায়েদ খান, যুববিষয়ক সহসম্পাদক নুর উদ্দিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন এবং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য আবদুল মালেক। জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর এবং জেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লস্করের নির্দেশক্রমে তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের শুরু থেকেই এই ছয় নেতা রুমিন ফারহানার পক্ষে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে জুয়েল আলী ছিলেন রুমিন ফারহানার মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবকারী, জুনায়েদ খান ছিলেন সমর্থনকারী এবং নুর উদ্দিন ছিলেন সাক্ষী। এ ছাড়া তাঁরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উপস্থিত থেকে প্রচারণা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লস্কর জানান, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিলে তা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। দলীয় ঐক্য ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের স্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস না পায়।
বহিষ্কৃত নেতাদের পরিচয় ও অভিযোগের সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| নাম |
পদবি |
রুমিন ফারহানার সঙ্গে ভূমিকা |
| মুন্সি আমান মিয়া |
সাধারণ সম্পাদক |
প্রচারণায় সক্রিয় |
| জুয়েল আলী |
দপ্তর সম্পাদক |
মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবকারী |
| জুনায়েদ খান |
প্রচার সম্পাদক |
সমর্থনকারী |
| নুর উদ্দিন |
যুববিষয়ক সহসম্পাদক |
সাক্ষী |
| মনির হোসেন |
সহসাংগঠনিক সম্পাদক |
প্রচারণায় অংশগ্রহণ |
| আবদুল মালেক |
৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য |
প্রচারণায় সহায়তা |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থী বা তার পক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং নির্বাচনী কৌশল বাস্তবায়নই এর মূল উদ্দেশ্য। এই বহিষ্কারের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।