খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
আজ ২৯ মার্চ, স্বাধীন বাংলাদেশের অমর বীর মুক্তিযোদ্ধা শাফী ইসলাম রুমীর ৭৩তম জন্মবার্ষিকী। গেরিলা যুদ্ধে ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ দলের সদস্য হিসেবে তাঁর অবদান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়। সদ্য আইএসসি পাশ করা রুমী তখন কেবল ২০ বছরের যুবক ছিলেন।
১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ জনাব শরীফ ও জাহানারা ইমামের ঘর আলো করে জন্ম নেন এক ফুটফুটে সন্তান। জাহানারা ইমাম ছেলে জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে নাম রাখেন ‘রুমী’, কবি জালালুদ্দীন রুমীর মতো দার্শনিক হতে। তিনি এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
এরপর আমেরিকার ইলিনয় ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তি হওয়ার ডাক পান। ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে, কিন্তু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৫ মার্চের বর্বর হত্যাযজ্ঞে দেশ শোষণ ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ছিন্ন হয়ে যায়। রুমী দেশের স্বাধীনতার ডাককে সাড়া দিয়ে বিদেশে নিরাপদ আশ্রয় প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপ দেন।
প্রথম সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা ২ মে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি সফল হন। সেক্টর-২ এর অধীনে মেলাঘরে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকায় ফিরে যোগ দেন ‘ক্র্যাক প্লাটুন’-এ। প্রধান লক্ষ্য ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে হামলা, পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি সেনার উপর গেরিলা আক্রমণ চালানো। ধানমণ্ডি রোডের এক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট রুমীকে বাড়ি থেকে পাক বাহিনী গ্রেফতার করে। কঠোর অত্যাচারেও তিনি কোনো তথ্য দেননি। ৪ সেপ্টেম্বর ধারণা করা হয়, পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে শহীদ করে।
নিচের টেবিলে রুমীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম তারিখ | ২৯ মার্চ ১৯৫১ |
| জন্মস্থান | জনাব শরীফ ও জাহানারা ইমামের পরিবার |
| শিক্ষা | এসএসসি, এইচএসসি, ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি |
| মুক্তিযুদ্ধ যোগদান | ১৯৭১ সালের মে মাসে |
| সেক্টর | সেক্টর-২ |
| গেরিলা দল | ক্র্যাক প্লাটুন |
| উল্লেখযোগ্য অভিযান | ধানমণ্ডি রোড আক্রমণ, সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন |
| গ্রেফতার | ২৯ আগস্ট ১৯৭১ |
| শহীদ হওয়া | ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ (সম্ভাব্য) |
জাহানারা ও শরীফ ইমাম রুমীর জন্মদিনে আশীর্বাদ করেছিলেন, “বজ্রের মত হও, দীপ্ত শক্তিতে জেগে ওঠ, দেশের অপমান দূর কর, দেশবাসীকে তার যোগ্য সম্মানের আসনে বসাবার জন্য জীবন উৎসর্গ করো।” শহীদ রুমী সেই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করেছেন।
আজ, ৭৩ বছর পরেও রুমী ফিরে আসেননি, বয়সও বাড়েনি; তিনি অমর তরুণ হিসেবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অম্লান হয়ে আছেন। স্বাধীনতার শতসহস্র বছরেও রুমীর বীরত্ব, দেশপ্রেম ও ত্যাগ শ্রদ্ধা ও স্মরণের অমর প্রতীক হিসেবে থাকবেই।
শ্রদ্ধাঞ্জলি: শহীদ শাফী ইসলাম রুমী।