খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইতালীয় ফুটবল লিগ সিরি-আ’র উত্তাপ এবার মাঠ ছাড়িয়ে পৌঁছেছে রেফারির ড্রয়িংরুম পর্যন্ত। গত শনিবার ইন্টার মিলান এবং জুভেন্টাসের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে রেফারির একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতালিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রেফারি ফেদেরিকো লা পেনা বর্তমানে কয়েক ডজন প্রাণনাশের হুমকির মুখে রয়েছেন, যার ফলে ইতালীয় পুলিশ তাকে নিরাপত্তার খাতিরে ঘরে অবরুদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ম্যাচটি যখন ৩-২ ব্যবধানে ইন্টার মিলানের পক্ষে শেষ হয়, তখন জুভেন্টাস সমর্থক ও কর্মকর্তাদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লা পেনা। ম্যাচের এক পর্যায়ে জুভেন্টাস ডিফেন্ডার পিয়েরে কালুলুকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করেন তিনি। আলেসান্দ্রো বাস্তোনির ওপর একটি চ্যালেঞ্জের অভিযোগে এই কার্ড দেওয়া হলেও রিপ্লেতে দেখা যায়, বাস্তোনি স্পষ্টভাবে ডাইভ দিয়েছিলেন বা পড়ে যাওয়ার ভান করেছিলেন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও জুভেন্টাস সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি হেরে যায়। সমর্থকদের দাবি, লা পেনার এই ভুল সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।
ম্যাচ পরবর্তী সময়ে লা পেনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কয়েক ডজন খুনের হুমকি আসতে শুরু করে। এর মধ্যে তার পরিবারকে লক্ষ্য করেও অশালীন ও হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। “আমি তোমাকে গুলি করব”, “আমরা তোমার বাড়ি চিনি” – এমন সব মন্তব্যের জেরে লা পেনা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইতালীয় গণমাধ্যম ‘লা রিপাব্লিকা’ এবং ‘স্পোর্টমিডিয়াসেট’ জানিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ তাকে আপাতত বাড়ি থেকে বের না হতে বলেছে।
ম্যাচটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ম্যাচের ফলাফল | ইন্টার মিলান ৩ – ২ জুভেন্টাস |
| বিতর্কিত সিদ্ধান্ত | পিয়েরে কালুলুর লাল কার্ড (ভুল দ্বিতীয় হলুদ কার্ড) |
| রেফারি | ফেদেরিকো লা পেনা |
| সম্ভাব্য শাস্তি | এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন |
| প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় | আলেসান্দ্রো বাস্তোনি (সিমুলেশন বা ডাইভ দেওয়ার অভিযোগ) |
| চূড়ান্ত গোল | ৯০ মিনিটে পিওতর জিলিনস্কি (ইন্টার) |
ইতালীয় রেফারিস অ্যাসোসিয়েশনের (AIA) প্রধান জিয়ানলুকা রোচি এই সিদ্ধান্তকে “স্পষ্ট ভুল” হিসেবে স্বীকার করেছেন। তার মতে, লা পেনা এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে রোচি একই সাথে খেলোয়াড়দের ডাইভ দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি জানান, বাস্তোনির সিমুলেশন বা ভান করাটা রেফারির জন্য বিভ্রান্তিকর ছিল। নিয়মানুযায়ী ভিএআর (VAR) দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে না, যা এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
জুভেন্টাসের ফুটবল কৌশল পরিচালক জর্জিও চিয়েলিনি এই ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ক্লাবের প্রধান নির্বাহী ড্যামিয়েন কমোলি বিরতির সময় রেফারির সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন, যার জন্য তাকেও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
কেবল রেফারিই নন, ডাইভ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ইন্টার ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি এবং তার স্ত্রীকেও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক গালাগাল করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের কমেন্ট সেকশন বন্ধ করে দিয়েছেন। এই ঘটনায় ইতালীয় ফুটবল পাড়ায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, যেখানে খেলার মাঠের ভুল এখন ব্যক্তিগত নিরাপত্তার হুমকিতে পরিণত হয়েছে।