খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে এক বৈঠকে দলটি এ প্রস্তাব দেয় এবং এই উদ্যোগে চীনের সহযোগিতা কামনা করে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার। তারা এ প্রস্তাবকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের পরে সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন। তবে ততক্ষণে মিয়ানমার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগ তোলে যে, জামায়াত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
জান্তা সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, “জামায়াতের প্রস্তাব মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করে। তারা রাখাইনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলে আসলে এই ইস্যুকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।”
বিবৃতিতে জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি শরণার্থী’ বলে উল্লেখ করে জানায়, রাখাইনে অবস্থানকারী মুসলিম জনগোষ্ঠী মূলত বাংলাদেশ থেকে আগত, এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান বহুবার স্পষ্ট করা হয়েছে। মিয়ানমারের এ দাবি আন্তর্জাতিক মহলে বহুবার বিতর্কিত হয়েছে, কারণ রোহিঙ্গারা বহু প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি।
জান্তা সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চীনের কুনমিং শহরে নিয়মিতভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আলোচনা চলে। তারা আরও জানিয়েছে, শরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার আগে পরিচয় যাচাই, নিবন্ধন এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত বাসস্থানের ব্যবস্থা করার নীতিও গ্রহণ করেছে তারা।
তবে জামায়াতের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাখাইনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ এই ধরনের প্রস্তাব মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর আরও দমন-পীড়ন বাড়াতে জান্তা সরকারকে উসকে দিতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক জটিল ইস্যুতে পরিণত হলেও, বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের এমন প্রস্তাব এবং মিয়ানমারের তীব্র প্রতিক্রিয়া—উভয়ই আলোচনাকে নতুন মোড় দিয়েছে।