খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় অটোরিকশা চালক মোর্শেদের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্ত আসামি হাবিবুর রহমান সবুজকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে লাকসাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মংচাই মারমা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার আসামি মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের মান্দারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশের তথ্যমতে, ২২ মার্চ সকাল ৬টার দিকে হাবিবুর রহমান সবুজ মোর্শেদকে মোবাইলে ফোন দিয়ে পোমগাঁও বাজারে ডেকে নেয়। ১৫ টাকার দৈনিক ভাড়ায় তিনি মোর্শেদের সারাদিনের জন্য ভাড়া নেয়। এরপর তাদের দুজন লাকসাম উপজেলার বেরনাইয়া বাজার, লক্ষণপুর বাজার এবং মনোহরগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন।
পরবর্তীতে তারা শ্রীয়াং গ্রামের মিয়াজি বাড়ির জামে মসজিদের কাছে পৌঁছালে সবুজ মোর্শেদের গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মসজিদের টয়লেটে লুকিয়ে রাখে। নিহতের বাবা মোস্তফা কামাল খন্দকার পরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় পুলিশের তদন্তকারী দল তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোর্শেদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামি শনাক্ত করে। পোমগাঁও বাজারের বিভিন্ন সিসি ক্যামেরা ফুটেজ, যাতায়াতের রাস্তার তথ্য এবং স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে সবুজকে চিহ্নিত করা হয়।
মংছাই মারমার নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ টিম শনিবার (২৮ মার্চ) অভিযান চালিয়ে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ডেনদাবর এলাকা থেকে হাবিবুর রহমান সবুজকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রাথমিক প্রমাণও জব্দ করা হয়। পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে যাতে অন্য সহযোগী ও আরও প্রমাণ উদঘাটন করা যায়।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত | মোর্শেদ, অটোরিকশা চালক |
| ঘটনার তারিখ | ২২ মার্চ ২০২৬, সকাল ৬টা থেকে |
| ঘটনা স্থান | শ্রীয়াং গ্রাম, মিয়াজি বাড়ির জামে মসজিদ, লাকসাম, কুমিল্লা |
| গ্রেপ্তার আসামি | হাবিবুর রহমান সবুজ (৩১), বাইশগাঁও ইউনিয়ন, মনোহরগঞ্জ |
| তদন্তকারী কর্মকর্তা | মংছাই মারমা, লাকসাম থানা |
| উদ্ধার প্রমাণ | সিসি ফুটেজ, মোর্শেদের হত্যার সময় ব্যবহারকৃত গামছা ইত্যাদি |
| পুলিশের পদ্ধতি | তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার, সিসি ফুটেজ পর্যালোচনা, অভিযান ও গ্রেপ্তার |
| মামলা দায়েরকারী | মোস্তফা কামাল খন্দকার (নিহতের বাবা) |
লাকসামে অটোরিকশা চালক হত্যার এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশের দ্রুত এবং তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। হাবিবুর রহমান সবুজের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল ধারা শনাক্ত হলেও অন্যান্য সহযোগী ও সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জনগণকে সুরক্ষা এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার জন্য সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। পুলিশ আশা করছে, গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন সম্ভব হবে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যাবে।