খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেশে লাফিয়ে বাড়ছে। রাজধানীর বাইরে এখন বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় জেলা বরগুনা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। সারা দেশের চিত্র প্রায় একই—ঘরে ঘরে জ্বর, হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে যাদের সর্বাধিক দায়িত্ব—সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ—তাদের কার্যক্রম এখনও অনেকটাই দায়সারা বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি হিসাবে জানুয়ারি থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৫৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন ৫৮ জন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যাটা সরকারি হিসাবের অন্তত তিন-চার গুণ বেশি। কারণ, অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন বা প্রাইভেট ক্লিনিকে আড়ালে থাকছেন।
বিশেষত জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। আগের পাঁচ মাসে মোট আক্রান্তের চেয়ে জুন এক মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৯৫১ জন। মৃত্যুও বেড়েছে দ্বিগুণ হারে। জুলাইয়ের অর্ধেকেই আক্রান্ত ৫ হাজার ২৮৯ জন, মৃত্যু ১৬ জনের।
বিগত বছরগুলোতে ডেঙ্গুর প্রধান কেন্দ্র ছিল ঢাকা মহানগর এলাকা। এবার সেই চিত্র পাল্টে গেছে। বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, কক্সবাজার, গাজীপুর, পিরোজপুর, চাঁদপুর, মাদারীপুর—এই জেলাগুলোতে আগাম সতর্কবার্তা থাকলেও সেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, গতবছরই বরগুনা ও আশপাশের জেলাগুলোতে উচ্চ সংক্রমণের আশঙ্কা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাতে গুরুত্ব দেয়নি। তিনি বলেন, জুনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মে মাসের তুলনায় প্রায় তিনগুণ—এটা জ্যামিতিক হারে বিস্তারের আগাম বার্তা। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
আইইডিসিআর-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, এখনই ডেঙ্গুকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা না করলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। তার মতে, বরাদ্দ সংকট রয়েছে, সিটি করপোরেশনগুলো সক্রিয় নয়, গণসচেতনতা দুর্বল, ফলে সামগ্রিক প্রতিরোধব্যবস্থাই ভেঙে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিতে সরকারের দ্বিধা করা উচিত নয়।
খবরওয়ালা/এমএজেড