খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
চলতি মৌসুম শেষে মোহাম্মদ সালাহ-এর লিভারপুল ত্যাগের ঘোষণা বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রায় এক দশক ধরে অ্যানফিল্ডে দাপট দেখানো এই তারকার বিদায়ের সিদ্ধান্তে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তার পরবর্তী ঠিকানা কোথায়?
৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, তিনি কি ইতোমধ্যে নতুন ক্লাব ঠিক করে ফেলেছেন? তবে এ বিষয়ে অনিশ্চয়তাই সবচেয়ে বড় সত্য। সালাহর দীর্ঘদিনের এজেন্ট রামি আব্বাস ইসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং ভুয়া খবর থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে সম্ভাব্য গন্তব্য নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। বিশেষ করে সৌদি প্রো লিগ এখন সবচেয়ে আলোচিত বিকল্প। দ্য অ্যাথলেটিক-এর মতে, ইউরোপে সেরা সময় কাটানোর পর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজেমা এবং নেইমার-এর মতো তারকারা সৌদি আরবে যোগ দেওয়ার যে ধারা তৈরি করেছেন, সালাহও সেই পথে হাঁটতে পারেন। সেখানে আর্থিক প্রস্তাবও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাছাড়া তাঁর সাবেক সতীর্থ সাদিও মানে, জর্জিনিও ভাইনালডাম এবং রবার্তো ফিরমিনো ইতোমধ্যেই সৌদি লিগে খেলছেন।
২০২৩ সালে আল ইত্তিহাদ সালাহকে দলে নিতে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড প্রস্তাব দিয়েছিল, যা লিভারপুল প্রত্যাখ্যান করে। তবে এবার ফ্রি এজেন্ট হওয়ায় নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক মিল থাকায় এই ক্লাবটি সালাহর জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। পাশাপাশি আল হিলাল-ও আগ্রহী থাকতে পারে, যারা অতীতে তাঁকে দলে টানার চেষ্টা করেছিল।
অন্যদিকে, মেজর লিগ সকার (এমএলএস) নতুন এক সম্ভাবনা হিসেবে সামনে এসেছে। লিগটির কমিশনার ডন গারবার ইতোমধ্যে সালাহকে স্বাগত জানানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং লিওনেল মেসি ও থমাস মুলার-এর অভিজ্ঞতা থেকে শেখার পরামর্শ দিয়েছেন। নতুন ক্লাব সান ডিয়েগো এফসি, যার সঙ্গে মোহামদ মনসুর-এর মালিকানাগত সম্পর্ক রয়েছে, আলোচনায় উঠে আসতে পারে।
ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোও সালাহকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী হতে পারে। জুভেন্টাস, এসি মিলান এবং ইন্টার মিলান-এর মতো ক্লাবগুলো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দলে টানার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখিয়ে থাকে। তবে সালাহর বয়স এবং বর্তমান ফর্ম—এই মৌসুমে ৩৪ ম্যাচে ১০ গোল—কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে তাঁর উচ্চ বেতন, যা বর্তমানে সাপ্তাহিক প্রায় ৪ লাখ পাউন্ড।
নিচে সম্ভাব্য গন্তব্যগুলোর একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো—
| সম্ভাব্য গন্তব্য | আকর্ষণের কারণ | প্রধান চ্যালেঞ্জ |
|---|---|---|
| সৌদি প্রো লিগ | উচ্চ বেতন, পরিচিত পরিবেশ | প্রতিযোগিতার মান নিয়ে প্রশ্ন |
| এমএলএস | বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা, নতুন অভিজ্ঞতা | তুলনামূলক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতা |
| ইতালিয়ান ক্লাব | ইউরোপে খেলা চালিয়ে যাওয়া | আর্থিক সীমাবদ্ধতা |
| গালাতাসারাই | প্রতিযোগিতামূলক লিগ, আগ্রহ | বেতন কাঠামো |
সব মিলিয়ে সালাহর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। তবে তিনি যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, তা বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।