খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসরাইলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় লেবাননে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং আরও ১৪৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সোমবার (২ মার্চ) প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এ হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজধানী বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ হামলা পরিচালিত হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। গুরুতর আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের বৈরুত ও আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি বিভাগগুলোতে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত দল মোতায়েন করা হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর ব্যাপক রকেট হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তারা ‘লেবাননজুড়ে’ হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যৎ হুমকি প্রতিরোধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হিজবুল্লাহকে ইসরাইলের জন্য হুমকি তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে তারা ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর আগে তারা জানিয়েছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার হুমকির প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের হাইফা শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে।
বিশেষত বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি দাহিয়েহ এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান কয়েক দফা বোমাবর্ষণ করে, যার ফলে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের কাচ ভেঙে যায় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হামলার তারিখ | ২ মার্চ |
| নিহতের সংখ্যা | ৩১ জন |
| আহতের সংখ্যা | ১৪৯ জন |
| প্রধান লক্ষ্যবস্তু | হিজবুল্লাহর ঘাঁটি |
| ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা | বৈরুতের দক্ষিণাংশসহ বিভিন্ন অঞ্চল |
| ইসরাইলের দাবি | উত্তর ইসরাইলে রকেট হামলার জবাব |
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই গোলাবিনিময়ের ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরের সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল।
লেবাননের সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তারা বলেছে, অব্যাহত হামলা বেসামরিক মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বাড়াচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।