খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রখ্যাত গায়িকা দিলরুবা খান আবারও শ্রোতাদের মন জয় করতে যাচ্ছেন, এবার দেশীয় লোকসঙ্গীতকে আধুনিক থিমের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করে। ‘পাগল মন’, ‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা’ এবং ‘বন্ধু চিরকাল’–এর মতো জনপ্রিয় গান দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া খান সম্প্রতি নতুন পুঁথি ও কিনচা প্রকল্পের রেকর্ডিং সম্পন্ন করেছেন। এই প্রকল্পের মূল অনুপ্রেরণা হল প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেমন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জীবন ও সংগ্রামের গল্প। খান নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ করেছেন।
ফেসবুকে একটি বিস্তৃত পোস্টে তিনি তার শৈশবের সঙ্গীতভূমি স্মরণ করে লিখেছেন, “আমরা ছোটবেলায় গ্রামীণ মেলায় পুঁথি, কিনচা ও অন্যান্য কাহিনিমূলক গান শোনার জন্য একত্রিত হতাম। আধুনিকতার এই হ rush-এর মধ্যে, আমাদের এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। আমার ছোট্ট প্রচেষ্টা হল এই ধনাঢ্য সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।” তিনি আরও যোগ করেছেন, “পুঁথি ও কিনচার মাধ্যমে আমি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জীবন ও সংগ্রামের কিছু দিক তুলে ধরার পাশাপাশি আমাদের লোকসংগীতের প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করতে চাই।”
নতুন রিলিজের সূচি নিম্নরূপ:
| অনুষ্ঠান | রিলিজের তারিখ | সময় (বাংলাদেশ) | প্ল্যাটফর্ম |
|---|---|---|---|
| পুঁথি গান | রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ৫:০০ PM | ইউটিউব – দিলরুবা খান অফিসিয়াল |
| কিনচা | সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ৫:০০ PM | ইউটিউব – দিলরুবা খান অফিসিয়াল |
দিলরুবা খানের সঙ্গীত যাত্রা শুরু হয়েছিল রাজশাহী ও রংপুরের গ্রামীণ পরিবেশে। তার পরিবারের সঙ্গীতময় ঐতিহ্য, যার মধ্যে ছিলেন কিংবদন্তি বাংলাদেশ রেডিও শিল্পী সৈয়দ হামিদুর রহমান, তাকে সঙ্গীতের দিকে প্রেরণা জুগিয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে পিতার মনে পেশাদার সঙ্গীতচর্চা নিয়ে reservations ছিল, কিন্তু খানের সঙ্গীত ও গানের প্রতি গভীর অনুরাগ তাকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি শুধুমাত্র তার কণ্ঠশিল্প প্রদর্শন করতে চান না, বরং গ্রামীণ সঙ্গীতের ধীরেধীরে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে তরুণ শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে চান। প্রাচীন কাহিনিমূলক রূপগুলোকে আধুনিক ব্যাখ্যার সঙ্গে সংমিশ্রণ করে তিনি নিশ্চিত করতে চান যে, এই শৈলী সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক ও জীবন্ত থাকবে।
দিলরুবা খানের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে, যা দেশের সমৃদ্ধ সঙ্গীত অতীত ও বর্তমানের পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করছে। মূলধারার পপ ও আধুনিক লোকসঙ্গীতের সঙ্গে পরিচিত দর্শকদের জন্য এটি একদিকে অতীতের স্মৃতিনির্ভর সঙ্গীতভ্রমণ, অন্যদিকে নতুন ধারার শোনার অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করবে।