লোহিত সাগরে একাধিক ভয়াবহ হামলার শিকার হয়ে একটি পণ্যবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে এবং সেটি বর্তমানে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। রবিবার (৬ জুলাই, ২০২৫) যুক্তরাজ্যের সামরিক কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটিতে বন্দুক, রকেটচালিত গ্রেনেড (আরপিজি) এবং সম্ভবত ড্রোনবোট দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে হামলার ধরন ও মাত্রা দেখে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ওপর সন্দেহ করা হচ্ছে, এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি।
যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজটিতে আগুন লেগেছে এবং এতে পানি ঢুকছে। জাহাজের নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, প্রাথমিক হামলাটি আটটি ছোট স্পিডবোটের মাধ্যমে চালানো হয়েছিল। এরপর জাহাজটিকে লক্ষ্য করে ড্রোনবোট পাঠানো হয়, যার মধ্যে দুটি বিস্ফোরিত হয়ে জাহাজে আঘাত হানে। জাহাজে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা আরও দুটি ড্রোনবোট ধ্বংস করতে সক্ষম হন।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, এই হামলার ঘটনাটি ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঘটেছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত উপগ্রহ চ্যানেল আল-মাসিরাহ হামলার খবর স্বীকার করলেও এর দায় স্বীকার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক পঞ্চম নৌবহর এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় লোহিত সাগরে হুথিরা বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা চালানোর পর তারা কিছুদিন হামলা থেকে বিরত ছিল। রবিবার হুথিরা ইসরায়েলের উদ্দেশে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করলেও, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে তারা সেটি প্রতিহত করেছে।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হুথিরা ১০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার ফলস্বরূপ দুটি জাহাজ ডুবে গেছে এবং চারজন নাবিক নিহত হয়েছেন। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগর করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যে রুট দিয়ে প্রতিবছর প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য পরিবহন করা হয়।
খবরওয়ালা/টিএস



