খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের এই অভিযান ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না শত্রু বাহিনী চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়। মূলত ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরান এই কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ নিশ্চিত করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ছয়টি দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সকল সম্পদ ও স্থাপনা এখন থেকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে।
হামলার শিকার হওয়া প্রধান প্রধান স্থাপনাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| দেশের নাম | আক্রান্ত সামরিক ঘাঁটি/স্থাপনা | ক্ষয়ক্ষতির ধরন (প্রাথমিক তথ্য) |
| কাতার | আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি | মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত। |
| কুয়েত | আল-সালেম বিমান ঘাঁটি | ঘাঁটির রানওয়ে ও সংলগ্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত। |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি (আবু ধাবি) | হামলায় ১ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। |
| বাহরাইন | মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর | কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-স্থাপনায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ। |
| জর্ডান | মার্কিন সামরিক সহায়তা কেন্দ্র | জর্ডান সীমান্তে অবস্থিত স্থাপনায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পতন। |
| সৌদি আরব | রিয়াদ (রাজধানী এলাকা) | বিকট বিস্ফোরণের শব্দ নিশ্চিত করেছে ফরাসি সংস্থা এএফপি। |
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইরান মনে করে, এই আগ্রাসন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে তেহরান যে কোনো পর্যায়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার বৈধ অধিকার রাখে বলে বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্য এক অনিশ্চিত যুদ্ধের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাতার, কুয়েত ও আমিরাতের মতো দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানা তেহরানের পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জ। এটি প্রমাণ করে যে, ইরান তার প্রতিরক্ষা সীমানা কেবল নিজের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। শত্রুপক্ষ যদি এই হামলার পাল্টা জবাব দেয়, তবে সংঘাতটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
আইআরজিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা শত্রুদের যেকোনো দুঃসাহসিক অভিযানের উপযুক্ত জবাব দিতে সদা প্রস্তুত। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বিশ্বনেতারা পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।