খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার একটি বড় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচি জেলা শহরের ঝুমুর বিজয় চত্বর এলাকায় বেলা একটার দিকে শুরু হয়। বিক্ষোভের কারণে চত্বর এবং আশপাশের প্রধান সড়কে যান চলাচল প্রায় স্থগিত হয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিক্ষোভকারীরা হাতে ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান নেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘March for Insaaf’, ‘হাদির হত্যার বিচার চাই’, ‘খুনিদের রক্ষা নয়, বিচার চাই’ ইত্যাদি। তারা অভিযোগ করে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়েও তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রকৃত অপরাধীদের ধরার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা সতর্ক করে বলেন, “দ্রুত বিচার না হলে আরও বড় অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। যদি বিচার না হয়, তাহলে আবারও একটি ‘জুলাই’ ঘটতে পারে।”
শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসন যদি শুরু থেকেই আন্তরিক হতো, তাহলে আজ আমাদের রাস্তায় নামতে হতো না। আমরা বিচার চাই, আশ্বাস নয়।” আরেক শিক্ষার্থী ফিরোজ আলম বলেন, “একজন মানুষ প্রকাশ্যে খুন হলো, অথচ কোনো অগ্রগতি নেই। এই নীরবতা আমাদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”
ওসমান হাদি ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এবং ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছিলেন। ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর ঢাকার পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলযোগে এসে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করে গুলি চালায়। ওই সময় হাদি রিকশায় ছিলেন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত | ওসমান হাদি |
| হত্যাকাণ্ডের তারিখ | ১২ ডিসেম্বর |
| হাসপাতালে ভর্তি | ঢাকা মেডিকেল কলেজ, এভারকেয়ার হাসপাতাল |
| মৃত্যুর তারিখ | ১৮ ডিসেম্বর (সিঙ্গাপুরে) |
| হত্যার ধরন | প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার চেষ্টা |
| হত্যাকারীর বাহন | মোটরসাইকেল |
| নির্বাচনী পরিকল্পনা | ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী |
ওসমান হাদির হত্যার ঘটনায় দেশের নানা মহল থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ উঠেছিল। সরকারের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়। এই হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে। আজকের বিক্ষোভও সেই আন্দোলনের অংশ, যা নিশ্চিত করতে চায় যে, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভোগ করবেন।