খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় এবারও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত তিন দিনের শান্তি আলোচনায় উভয় পক্ষের প্রতিনিধি অংশ নিলেও যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত মেলেনি। মস্কোর প্রতিক্রিয়া, আচরণ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট উত্তর না থাকায় আলোচনাটি কার্যত নিষ্ফল হয়েছে। আলোচনার ব্যর্থতার মধ্যেই ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়া চালিয়েছে যুদ্ধ শুরুর পর অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনার পরিবেশকে ‘গঠনমূলক’ বললেও পরিষ্কার করেছেন, শান্তির সত্যিকারের সমাধান মস্কোর সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা জানিয়েছেন, কূটনীতিতে অগ্রগতি হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে রাশিয়া তার ভূখণ্ড দখলের দাবি থেকে পিছু হটতে রাজি কি না।
এদিকে আলোচনার ব্যর্থ অবস্থাতেই রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি লাইন ও অবকাঠামোতে ভয়াবহ ড্রোন–ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইউক্রেন বলেছে, মাত্র এক রাতেই রাশিয়া ব্যবহার করেছে ৬৫৩টি ড্রোন এবং ৫১টি ক্ষেপণাস্ত্র। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ভূপাতিত করেছে ৫৮৫টি ড্রোন ও ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র। কিন্তু বাকি অস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানায় অন্তত ২৯টি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আইএইএ জানিয়েছে, পারমাণবিক রিয়্যাক্টরগুলো ঠান্ডা রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এই সংযোগ বন্ধ হলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার হামলাকে ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক চাপ কৌশল’ বলে মন্তব্য করেছেন বেশ কয়েকজন সামরিক বিশেষজ্ঞ।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি এবং সতর্কবার্তা হিসেবে বিমান হামলা চালানো ইঙ্গিত দেয়— শীতকালেও সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে। কারণ রাশিয়া দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসনের বিস্তীর্ণ অংশ ধরে রেখে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। মাত্র এক মাসে তারা প্রায় ৫০৫ বর্গকিলোমিটার দখলে নিয়েছে। ফলে আলোচনার টেবিল দুর্বল হয়ে পড়ছে ইউক্রেনের জন্য, আর রাশিয়া চাপ বাড়িয়ে তার কৌশলগত লক্ষ্য স্থির রাখছে।
ফ্লোরিডার সংলাপ শেষ হওয়ার পর ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য আবারও একত্র হতে যাচ্ছে ‘নতুন চাপ কৌশল’ নির্ধারণের জন্য। প্রমাণ হয়ে গেছে, আলোচনা নয়, শক্তির প্রদর্শনই এখন ইউক্রেন যুদ্ধে ফলাফল নির্ধারণের পথ তৈরি করছে।