খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিক্ষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থপতি, গবেষক ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বুশরা শাহরিয়ার। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি পুনরায় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থাপত্য বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেছেন। নগর পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর উচ্চতর গবেষণা এবং সংগীতাঙ্গনে তাঁর সৃজনশীল পদচারণা তাঁকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। সম্প্রতি তাঁর এই পুনরাগমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সহকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
বুশরা শাহরিয়ার কেবল একজন কণ্ঠশিল্পী নন, বরং স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা বিষয়ে একজন দক্ষ গবেষক। ইতিপূর্বে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। ওই সময়ে তিনি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং এবং স্থাপত্যবিদ্যার পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর পড়ানোর সহজ ভঙ্গি এবং তাত্ত্বিক বিষয়ের প্রায়োগিক উপস্থাপনা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সমাদৃত ছিল।
পরবর্তীতে নিজের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করতে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাড়ি জমান। তিনি ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি), রুর্কি থেকে নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা (Urban and Rural Planning) বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। অসামান্য মেধা ও একাডেমিক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখায় তিনি সেখানে মর্যাদাপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি লাভ করেন।
বুশরা শাহরিয়ারের শিক্ষা ও কর্মজীবনের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও অর্জন |
| বর্তমান পদবি | প্রভাষক, স্থাপত্য বিভাগ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | পিএইচডি গবেষক (চূড়ান্ত পর্যায়), স্নাতকোত্তর (আইআইটি রুর্কি) |
| গবেষণার বিষয় | ঢাকার কমিউনিটি-ভিত্তিক বন্যা স্থিতিস্থাপকতা |
| সাবেক অভিজ্ঞতা | প্রভাষক (২০১৫-২০১৭), স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ |
| অন্যান্য পরিচয় | স্থপতি, গবেষক এবং পেশাদার কণ্ঠশিল্পী |
২০১৯ সাল থেকে বুশরা শাহরিয়ার আইআইটি রুর্কিতে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘ঢাকার কমিউনিটি-ভিত্তিক বন্যা স্থিতিস্থাপকতা’। ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকার বন্যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নগরবাসীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে তাঁর এই গবেষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী। বর্তমানে তিনি তাঁর থিসিস বা অভিসন্দর্ভ জমা দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর এই গবেষণা কেবল একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং বাংলাদেশের নগর পরিকল্পনাবিদদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থপতি বুশরা শাহরিয়ারের সংগীত প্রতিভা দেশজুড়ে স্বীকৃত। তাঁর মরমী ও দেশপ্রেমমূলক গানগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে ‘উৎসবের বাংলাদেশ’ এবং ‘খেলাধুলার বাংলাদেশ’ গান দুটি জাতীয় বিভিন্ন আয়োজনে এবং ক্রীড়া উৎসবগুলোতে নিয়মিত বাজানো হয়। এছাড়া ‘একশো নালিশ’, ‘তোমায় যদি’ এবং ‘গল্প হবেই আয়’—এর মতো রোমান্টিক ও জীবনধর্মী গানগুলো তাঁর শিল্পী সত্তার বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলে।
নিজের কর্মক্ষেত্রে ফেরা নিয়ে বুশরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। তিনি মনে করেন, শিক্ষকতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের স্থপতিদের মেধা বিকাশে যেমন সহায়তা করা যায়, তেমনি গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব। একই সাথে তিনি তাঁর গানের চর্চাও অব্যাহত রাখতে চান। বহুমুখী প্রতিভার এই ব্যক্তিত্ব একই সাথে শিক্ষা ও সংস্কৃতি—উভয় অঙ্গনে সমান তালে এগিয়ে যাবেন, এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর গুণগ্রাহীদের।