খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রংপুরে। কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির (মান্থলি পে-অর্ডার) অনুমতি পাইয়ে দিতে সাত লাখ টাকা ঘুষ দিতে গিয়ে হাতেনাতে আটক হয়েছেন ওই বিদ্যালয়েরই এক শিক্ষক। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুরের শিক্ষা কমপ্লেক্স অবস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, রৌমারীর কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম সোমবার দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক রোকসানা বেগমের চেম্বারে প্রবেশ করেন। উপ-পরিচালক তার আগমনের উদ্দেশ্য জানতে চাইলে মাইদুল ইসলাম তার মুঠোফোনের একটি বার্তা প্রদর্শন করেন। তিনি জানান, তার বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর এমপিওভুক্তি সংক্রান্ত ঝুলে থাকা কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য তিনি সাত লাখ টাকা নিয়ে এসেছেন।
আলাপচারিতার একপর্যায়ে শিক্ষক মাইদুল তার সাথে থাকা একটি ব্যাগ বারবার উপ-পরিচালককে দেখিয়ে দাবি করেন যে, সেখানে নগদ সাত লাখ টাকা রয়েছে। তিনি অনুরোধ করেন, এই টাকা গ্রহণ করে যেন দ্রুত এমপিওভুক্তির কাজগুলো করিয়ে দেওয়া হয়। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি এমন অনৈতিক প্রস্তাব পেয়ে উপ-পরিচালক তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
| সময় ও পর্যায় | ঘটনার বিবরণ |
| সময়কাল | সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি), দুপুর। |
| ঘটনাস্থল | উপ-পরিচালকের দপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি), রংপুর অঞ্চল। |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | মাইদুল ইসলাম, শিক্ষক, কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়, রৌমারী। |
| ঘুষের পরিমাণ | নগদ ৭,০০,০০০ (সাত লাখ) টাকা। |
| উদ্দেশ্য | বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি নিশ্চিত করা। |
| আইনি পদক্ষেপ | দুদক কর্তৃক আটক ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু। |
উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম কক্ষের বাইরে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ডেকে আনেন এবং শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে টাকার ব্যাগসহ আটকে রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রংপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শাওন মিয়াকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে দুদকের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
দুদক কর্মকর্তারা কর্মচারীদের উপস্থিতিতে মাইদুল ইসলামের ব্যাগ তল্লাশি করে সেখানে নগদ সাত লাখ টাকা পান। অপরাধের সত্যতা পাওয়ার পর দুদক শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শিক্ষক ঘুষ দিতে আসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
দুদক রংপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শাওন মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, “ঘুষ দেওয়া এবং নেওয়া উভয়ই দণ্ডনীয় অপরাধ। এখানে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রলুব্ধ করার এবং অবৈধভাবে অর্থ প্রদানের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা সাত লাখ টাকা উদ্ধার করেছি এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছি।”
বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন এই ঘটনার নেপথ্যে আর কেউ জড়িত আছে কি না, কিংবা এই সাত লাখ টাকার উৎস কী, তা খতিয়ে দেখছে। আটক শিক্ষক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনাটি রংপুর অঞ্চলের শিক্ষা বিভাগে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবিতে সংশ্লিষ্টদের সোচ্চার করেছে।