খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায়ের দিন নির্ধারণ করা হবে। মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে—প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি প্রথমবার যে কোনো সরকারের প্রধানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে রায় প্রদান হবে।
প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করেছে। তবে মামুনের শাস্তি নির্ধারণ সম্পূর্ণ ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় রাখা হয়েছে, কারণ তিনি ‘অ্যাপ্রুভার’ হিসেবে সত্য ঘটনাবলি স্বীকার করেছেন। মামুন নিজের ব্যয়বহুল আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদের মাধ্যমে খালাস চেয়েছেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলাটি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দাখিল করা হয়। বিচার প্রক্রিয়ায় প্রথমবার ট্রাইব্যুনালে আসামি ‘অ্যাপ্রুভার’ হয়েছেন, যা মানে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এই প্রক্রিয়া দেশের ইতিহাসে প্রথমবার সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে। অন্যান্য টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমও বিটিভির সহযোগিতায় সম্প্রচার করেছে, ফলে ঘরে বসে অনেক নাগরিক বিচারিক কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম বলেন, মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরস্ত্র ছাত্রদের ওপর গুলি চালানো ও হত্যার নির্দেশদান। প্রসিকিউশন মনে করছে, আসামিরা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন।
আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ হিসেবে সত্য ঘটনা প্রকাশ করেছেন। ফলে তার শাস্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারে। ট্রাইব্যুনাল তাকে সম্পূর্ণভাবে মুক্তি দিতে পারেন, সীমিত সাজা দিতে পারেন, বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন।