খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডে দুই রোগীর মৃত্যু এবং ছয়জনের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও আগুনে সরাসরি কারও মৃত্যু হয়নি, স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সময় অক্সিজেন ও চিকিৎসা অব্যবস্থার কারণে দুজনের প্রাণহানি ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে চার আনসার সদস্যসহ মোট ছয়জন অল্পকালীন অসুস্থ হয়েছেন।
ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার একটি স্টোররুমে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্টোররুমে রাখা ফোম, চাদর ও বালিশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ধোঁয়া দ্রুত মেডিসিন ওয়ার্ডে পৌঁছায়, ফলে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই তড়িঘড়ি করে রোগীদের নিয়ে ভবনের বাইরে সড়কে আশ্রয় নেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে হাসপাতালের স্টাফ এবং স্থানীয়রা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন, তবে তা সফল হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের সময় স্থানান্তরিত হওয়া রোগীদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন:
| রোগীর নাম | বয়স | স্থানান্তর সংক্রান্ত পরিস্থিতি | মৃত্যু কারণ |
|---|---|---|---|
| কাজী আতাউর রহমান | ৮০ | চতুর্থ তলা থেকে পঞ্চম তলায় স্থানান্তরিত | অক্সিজেন অভাবে |
| আবুল হোসেন | ৬৭ | হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে নিরাপদে সরানো হয় | স্থানান্তরের সময় চিকিৎসা সীমাবদ্ধতা |
কাজী আতাউর রহমানের পুত্রবধু সাজেদা পারভীন জানান, আগুন লাগার সময় তার শ্বশুর ইনহেলার ও অক্সিজেনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দ্রুত স্থানান্তরের সময় অক্সিজেন সরবরাহ সম্ভব হয়নি, ফলে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ জানান, আগুন লাগার খবরে ৩০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে গিয়ে বাবাকে মৃত অবস্থায় পান।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, “মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কর্নারে আগুন লাগার পর রোগীদের নিরাপদে সরানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।” উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান জানান, ভবনের দুটি ইউনিটে প্রায় ১০০ রোগী ভর্তি ছিলেন, তাদের সবাইকে নিরাপদে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবুজর গিফরী বলেন, “আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। স্টোররুমে দাহ্য সামগ্রী থাকায় দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট বা অসাবধানতা থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে স্থানীয়রা এবং হাসপাতালের স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
মোট ঘটনা এবং প্রাথমিক তথ্যের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:
| বিষয় | সংখ্যা / বিবরণ |
|---|---|
| মৃত রোগীর সংখ্যা | ২ |
| অসুস্থ ব্যক্তি | ৬ |
| স্থানান্তরিত রোগীর সংখ্যা | প্রায় ১০০ |
| আগুন নেভাতে সময় | ৪০ মিনিট |
| ফায়ার সার্ভিস ইউনিট | ৩ |
এই অগ্নিকাণ্ড হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের নিরাপদে সরানোর চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।