খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পাইপ বসানোর সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা সেই গ্যাস ব্যবহার করে রান্নার কাজ চালাচ্ছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রূপনারায়ন কুড়া ইউনিয়নের গাছগড়া গ্রামে। বাড়ির মালিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, প্রায় ১০–১২ দিন ধরে গ্যাস বের হচ্ছে, তবুও প্রশাসনের কেউ খোঁজ নেয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খবর পাঠানো ও ভিডিও ফুটেজ দেখানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় কৃষক নূর মোহাম্মদ কয়েক দিন আগে পানীয় জলের জন্য সাব-মার্সিবল বোরিং শুরু করেন। ৪০ ফুট গভীরতায় পৌঁছানোর পর মাটির নিচ থেকে চাপ অনুভূত হয়। পাইপ বারবার উপরে উঠে আসে এবং পানি উপচে আসে। মিস্ত্রিরা বোরিং সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়ে আরও দুইবার বোরিং শুরু করেন, তৃতীয় বোরিংতেও একই ঘটনা ঘটে। বুদবুদ ও ফিনকি থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ ধরা পড়ে। পরে বাড়ির পূর্বদিকে চতুর্থ বোরিং সম্পন্ন হয়।
বাড়ির মালিক নূর মোহাম্মদ জানান, বোরিংয়ের গর্ত থেকে বুদবুদ ও বাতাস বের হচ্ছে। এই গ্যাস ব্যবহার করে তারা আগুন দিয়ে ভাত রান্না করছেন। তিনি বলেন, পানীয় জলের জন্য বোরিং করতে গিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি ধরা পড়ায় বোরিং চতুর্থবার স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট গ্যাসের এই চাপ এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
রূপনারায়ন কুড়া ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি সোহেল রানা জানিয়েছেন, পশ্চিম গাছগড়া গ্রামে গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেছে, তবে সরকারি কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। ইউপি সদস্য হযরত আলী বলেন, সাব-মার্সিবল বোরিং থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। এর আগে এ এলাকায় বোরিং করার সময়ও গ্যাস পাওয়া গেছে। তিনি গ্যাসের মজুদ অনুসন্ধানে কর্তৃপক্ষের নজরদারি কামনা করেছেন।
জনস্বাস্থ্যের প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ নিরূপণ পেট্রোবাংলা করে থাকে। তবে উন্মুক্ত স্থানে মাটির নিচের গ্যাসে আগুন ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ, এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমে।
খবরওয়ালা / এমএজেড