শেরপুর, নাটোর ও খুলনা জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন পুলিশ সুপারসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ অধিশাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তৌসিফ আহমেদ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ রদবদল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বদলির তালিকায় শেরপুর, নাটোর ও খুলনা জেলা ছাড়াও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলামকে খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী পুলিশের একজন উপপুলিশ কমিশনার এ কে এম জহিরুল ইসলামকে শেরপুর জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
খুলনা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে বদলি করা হয়েছে। একইসঙ্গে খুলনা মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে খুলনা জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নাটোর জেলার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হককে নাটোর জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| জেলা/ইউনিট |
পূর্ব পদ |
নতুন পদ |
| শেরপুর |
পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম |
খুলনা রেঞ্জ উপমহাপরিদর্শক কার্যালয়ে সংযুক্ত |
| শেরপুর |
এ কে এম জহিরুল ইসলাম (উপপুলিশ কমিশনার) |
পুলিশ সুপার, শেরপুর |
| খুলনা |
মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান |
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন |
| খুলনা |
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম (উপপুলিশ কমিশনার) |
পুলিশ সুপার, খুলনা |
| নাটোর |
মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব |
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন |
| নাটোর |
মোহাম্মদ শরীফুল হক |
পুলিশ সুপার, নাটোর |
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এই ধরনের বদলি করা হয়, যাতে মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত থাকে এবং তদন্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও জেলায় এমন রদবদল সাধারণত চলমান কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আনতে সহায়ক হয়। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম, জননিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়াতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এ ধরনের রদবদলকে প্রশাসনিক রুটিন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যা পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।