খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকেই নানা দাবি নিয়ে মাঠে নামতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের চেয়েও দিন দিন আন্দোলন-কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ছেন।
আন্দোলনের ফলে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা থামছেই না। একের পর এক দাবি নিয়ে আন্দোলন ও নানা কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন শিক্ষকরাও। দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিচ্ছেন। এতে তীব্র যানজটের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারকে চাপে ফেলে একটা দাবি পূরণ হওয়ার পর সামনে হাজির হচ্ছে আরও একাধিক ইস্যু।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের আলাপ হলেও তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়েও ছাত্র সংগঠনগুলোর মতানৈক্য রয়েছে। তারা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে কেউ কেউ। এমনকি মব সৃষ্টি করে শিক্ষকদের নির্যাতন ও পদত্যাগে বাধ্য করারও অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা পেছানোর আন্দোলনেও জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে। এতে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই চলছে এক ধরনের অস্থিরতা।
আন্দোলন প্রসঙ্গে কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী জোবায়ের পাটোয়ারী বলেন, আমাদের প্রথম দাবি ছিল ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের নিয়ে। ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের সমস্যার যে সমাধান সেটি আমরা এখনো দেখতে পাইনি। আমাদের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি।
সদ্য সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা (বর্তমানে পরিকল্পনা উপদেষ্টা) অধ্যাপক ওয়াহিউদ্দিন মাহমুদ রোববার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব স্বল্প সময়ের। সেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংস্কার করার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া পূরণ করতে বেশিরভাগ সময় চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে অর্থের বিষয় রয়েছে। চাইলেও মুহূর্তের মধ্যে সব দাবি পূরণ করা সম্ভব নয়। তারপরও আমরা অনেক দাবি মেনে নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এসব দাবির সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়ও জড়িয়ে পড়ছে। যেটি আমাদের একধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ বলেন, আমরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে রাতদিন কাজ করছি। তবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের উচিত নয়। এতে আমরা কষ্ট পাই। শিক্ষার্থীদের কিছু কিছু দাবি রাজনৈতিক মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি না করে, সে দিকে শিক্ষকদেরও নজর রাখতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় তাদের প্রতি মানুষের সমর্থন কমছে। তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিকল্পভাবে তুলে ধরতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই অস্থিরতা শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড