খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)সহ চারটি বামপন্থী দলের আপত্তির পর জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে।
এর ফলে সংবিধান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাদ পড়ছে না বলে নিশ্চিত করেছে ঐকমত্য কমিশন।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে চূড়ান্ত সংস্করণ প্রকাশ করে কমিশন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতা ও অতিথিদের কাছে বইটি হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি অঙ্গীকারনামার পঞ্চম ধারা সংশোধনের বিষয়েও জানানো হয় এবং দলগুলোর নেতাদের হাতে পিডিএফ কপি তুলে দেওয়া হয়।
চূড়ান্ত সনদে প্রতিটি প্রস্তাবের পাশে সংশ্লিষ্ট দলের আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—যাতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে নির্বাচনে জয়ী হলে দলগুলো তাদের ইশতেহার অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সনদের অনুলিপি পাঠায়। তাতে বিদ্যমান সংবিধানের ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি–সংক্রান্ত ১৫০(২) অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির প্রস্তাব ছিল, যা পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিলকেও সংবিধান থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করে। এই প্রস্তাবে নয়টি দল আপত্তি জানিয়েছিল।
বাম দলগুলো—বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ—বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেয়। তাদের প্রধান আপত্তির বিষয় ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব।
এই আপত্তির পর সংশোধিত সনদে পরিবর্তন আনা হয়। এখন চূড়ান্ত সনদে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট পঞ্চম ও ষষ্ঠ তফসিল সংবিধানে রাখা হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হয় তিনটি তফসিল। পঞ্চম তফসিলে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। ষষ্ঠ তফসিলে আছে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা। সপ্তম তফসিলে আছে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
নতুন সনদ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কারের পরও সপ্তম তফসিলে থাকা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বহাল থাকবে।
জুলাই জাতীয় সনদে ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হলো। আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতার পথে পদার্পণ করেছি।”
খবরওয়ালা/আশ