খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের জন্য সরবরাহ করা হেডফোনের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মির আহমেদ বিন কাশেম (ব্যারিস্টার আরমান)। তিনি অভিযোগ করেছেন, সংসদে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হেডফোন এতটাই নিম্নমানের যে তা ব্যবহার করতে গিয়ে তার কান থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যথা অনুভূত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে সমালোচনাও করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশনের শেষ দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ব্যারিস্টার আরমান এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। পোস্টে তিনি সংসদে ব্যবহৃত একটি কালো রঙের হেডফোনের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, সংসদ সদস্যদের জন্য দেওয়া ডিভাইসটির মান অত্যন্ত নিম্নমানের। তার দাবি, দীর্ঘ সময় এটি ব্যবহার করতে গিয়ে তার কানে অস্বস্তি শুরু হয় এবং পরে সেই ব্যথা মাথা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হেডফোনটির সাউন্ড কোয়ালিটিও খুবই খারাপ। তার মতে, সংসদের পুরোনো অডিও ডিভাইসগুলোও সম্ভবত এর চেয়ে ভালো মানের শব্দ প্রদান করত। এই পরিস্থিতি তাকে হতাশ করেছে বলেও তিনি পোস্টে মন্তব্য করেন। ব্যারিস্টার আরমানের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই সংসদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত অডিও সরঞ্জাম সাধারণত উচ্চমানের হওয়া প্রয়োজন। কারণ সংসদ অধিবেশনে বিভিন্ন ভাষায় বক্তৃতা, অনুবাদ এবং স্পষ্ট শব্দ শোনার জন্য মানসম্মত হেডফোন অপরিহার্য। নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করলে সংসদ সদস্যদের কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে একই অধিবেশনে সংসদের মাইক্রোফোন ব্যবস্থায়ও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়। অধিবেশন চলাকালে হঠাৎ করে মাইকের শব্দে বিভ্রাট সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রায় ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। এই বিরতির মাধ্যমে সংসদ সচিবালয়ের প্রযুক্তি দল সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করে।
বিরতি শেষে দুপুর পৌনে একটার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়। তবে মাইকের শব্দ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় কিছু সময় স্পিকারকে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়। এতে সংসদ কক্ষে সাময়িকভাবে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সংসদের প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক সংসদ পরিচালনায় উন্নত অডিও ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে ঘটনাটির মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ | সম্ভাব্য প্রভাব |
|---|---|---|
| অভিযোগকারী | মির আহমেদ বিন কাশেম (ব্যারিস্টার আরমান) | সংসদের সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন |
| প্রধান অভিযোগ | নিম্নমানের হেডফোন ব্যবহারে কান ও মাথা ব্যথা | সংসদ সদস্যদের কাজের পরিবেশে অসুবিধা |
| সাউন্ড সমস্যা | অডিও কোয়ালিটি নিম্নমানের বলে দাবি | বক্তৃতা ও অনুবাদ শোনায় সমস্যা |
| প্রযুক্তিগত ত্রুটি | সংসদের মাইকে শব্দ বিভ্রাট | অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত |
| স্পিকারের ব্যবস্থা | ২০ মিনিট বিরতি ও পরে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার | কার্যক্রম চালু রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা |
সংসদ পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদ সদস্যদের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের মান উন্নত করা প্রয়োজন। সংসদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার জন্য অডিও, অনুবাদ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি আধুনিক ও মানসম্পন্ন হওয়া জরুরি।
সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে হেডফোনের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং মাইক্রোফোনে যান্ত্রিক ত্রুটি সংসদের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর বিষয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা এড়াতে সংসদ সচিবালয়কে সরঞ্জাম নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেক পর্যবেক্ষক।