খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 25শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই দেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে আমাদের দেশকে একটা অবস্থানে নিয়ে এসেছিলাম। আজকে সবাই সব কথা বলে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতার কথা কেউ বলে না। এখন সরকার বলছে, সংস্কার করতে হবে। সংস্কার কী আমরা করিনি। শিক্ষানীতি, ওষুদ নীতি, উপজেলা পদ্ধতি এসবই সংস্কারের অংশ ছিল।’
শনিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েল কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত পার্টির নতুন অংশের দশম জাতীয় কাউন্সিলে এসব কথা বলেন মঞ্জু।
তিনি বলেন, ‘এখন সংস্কারের জন্য বিদেশ থেকে লোক ভাড়া করতে আনতে হয়। তারা কীভাবে সংস্কার করবে। তারা সংস্কারের প্রস্তাবনা দিতে পারে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে হলে নির্বাচিত সংসদ লাগবে। নির্বাচনের কথা উঠছে। কিন্তু কিভাবে নির্বাচন হবে, আদৌ নির্বাচন হবে কিনা- জানি না। তাছাড়া দেশে এখন যে পরিবেশ বিরাজ করছে, তাতে নির্বাচন কি দরকার? বড় দুই দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে নিলে নির্বাচনের খরচ বাবদ দুই হাজার কোটি টাকা বেঁচে যাবে।’
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সারা দেশে দখলবাজি চলছে। বাড়ি দখল, দোকান দখল, হাটবাজার দখল, সব জায়গায় দখলবাজি হচ্ছে। কোনো কিছুতেই নিয়ম-কানুনের বালাই নেই। এসব বন্ধ করতে সরকারের দৃশ্যমান উদ্যোগও চোখে পড়ছে না।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘সরকার সংস্কার করছে, কিন্তু এই সংস্কার তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে নির্বাচিত সংসদ দরকার। আর সংসদের জন্য দরকার জাতীয় নির্বাচন। যদিও সরকার নির্বাচনের কথাও বলছে। কিন্তু আদৌ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’
ব্যারিস্টার আনিস বলেন, ‘অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐক্যমত দরকার। কিন্তু সরকার তা করছে না। আমি সরকারকে বলবো, বিভাজনের রাজনীতি বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যমত তৈরি করুন।’
তিনি বলেন, দেশে নির্বাচনের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। সারা দেশে চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, দখলবাজি চলছে। মানুষ খুন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সাংবাদিকরাও হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। একটি অস্থির পরিবেশ পুরো বাংলাদেশে। এই অবস্থায় কীভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।
ব্যারিস্টার আনিস আরও বলেন, ‘যারা আজ চাঁদাবাজি করছে, তারা সবাই রাজনৈতিক দলের সমর্থক। এই চাঁদাবাজি রাজনৈতিক দলকে বন্ধ করতে হবে। সবাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে। কিন্তু ক্ষমতায় যারা থাকে তাদের দুর্নীতি চোখে পড়ে না। ক্ষমতা থেকে গেলেই দুর্নীতির মামলা হয়। আবার ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতির মামলা উঠে যায়। কিন্তু ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর জাতীয় পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে কেউ দুর্নীতির প্রমাণ করতে পারেনি।’
খবরওয়ালা/এসআর