খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী বড় ধরনের একটি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ করার দাবি করেছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি গোয়েন্দা অভিযান ও যৌথ পুলিশি তৎপরতায় পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত একটি নেটওয়ার্কের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই চক্রটি ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দুই মাসব্যাপী অভিযানে দিল্লি, কলকাতা, তামিলনাড়ু এবং ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বিস্তৃত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, যা সীমান্ত পেরিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে অন্যতম কথিত মাস্টারমাইন্ড শাব্বির আহমেদ লোন। দিল্লি পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তিনি এর আগে কাশ্মীর অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এবং ২০০৭ সালে অস্ত্র ও গ্রেনেডসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দীর্ঘ কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সময় পলাতক থেকে কার্যক্রম চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই একটি গোপন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন।
অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে মোবাইল ফোন, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, পয়েন্ট অব সেল ডিভাইস, বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন ধরনের প্রচারণামূলক পোস্টার রয়েছে। এসব উপকরণ ব্যবহার করে তারা অর্থ লেনদেন ও যোগাযোগ পরিচালনা করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃত সাত বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়েছে।
| নাম | বয়স | জেলা |
|---|---|---|
| মিজানুর রহমান | ৩২ | বগুড়া |
| জাহিদুল ইসলাম | ৪০ | বগুড়া |
| মোহাম্মদ লিটন | ৪০ | বগুড়া |
| মোহাম্মদ উজ্জ্বল | ২৭ | বগুড়া |
| উমর ফারুক | ৩২ | বগুড়া |
| মো. শাফায়েত হোসাইন | ৩৪ | ঝালকাঠি |
| রবিউল ইসলাম | ২৭ | ঠাকুরগাঁও |
পুলিশের দাবি, এই নেটওয়ার্ক সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল এবং ভারতে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে সময়মতো অভিযান পরিচালনার ফলে তাদের পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে নিয়মিত গোয়েন্দা সমন্বয় ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।