খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে অধিকাংশ সবজির মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। বিক্রেতারা এর কারণ হিসেবে সরবরাহ ঘাটতিকে দায়ী করছেন। বর্তমানে বেগুন, করলা, কাঁকরোল, বরবটি সহ প্রায় সমস্ত সবজির দাম আকাশছোঁয়া। এমনকি পটোল ও ঢেঁড়সের মতো সাধারণ সবজিও প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু সবজিই নয়, মাছ, মুরগি, খোলা আটা, মসুর ডাল সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর দামও বেশ চড়া। সামগ্রিকভাবে খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতাদের দম বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছে। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ বাজারে সবজি কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী কাঁচাবাজার এবং জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গোল বেগুন মান অনুযায়ী ১৪০ থেকে ২০০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, পটোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ঝিঙা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ধুন্দল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, শিম মানভেদে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩২০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও, প্রতিটি চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লম্বা লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
রাজধানীর রামপুরা কাঁচাবাজারে ক্রেতা মো. সুরুজ আলী বলেন, “বাজারে এখন শীতকালীন আগাম সবজি আসা শুরু হয়েছে। বাজারে সবজির কোনো তেমন ঘাটতিও নেই। সবজির দাম কিছুটা কমার কথা ছিল, কিন্তু বিক্রেতারা নানা অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটছে। বাড়তি দামের জন্য সাধারণ মানুষ অনেক আগেই মাছ-মাংস খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে, এখন যদি তারা সবজিও পর্যাপ্ত খেতে না পারে, তবে কী খাবে? বাজার তদারকিতে বর্তমান সরকারের কোনো মনোযোগ নেই। এই সুযোগে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা যার যেভাবে খুশি দাম বাড়িয়ে পণ্য বিক্রি করছে।”
রাজধানীর জোয়ারসাহারা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মিলন খান বলেন, “বাজারে শীতের কিছু আগাম সবজি আসা শুরু হলেও এবার লাগাতার বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কম হয়েছে, যে কারণে বাজারে এখন সবজির দাম চড়া। তবে আর কিছুদিন পর যখন বিপুল পরিমাণে শীতের সবজি বাজারে আসবে, তখন দাম অনেকটাই কমে যাবে। অতিরিক্ত মূল্যের কারণে ক্রেতারা সবজি কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। যারা আগে এক কেজি কিনতেন, তারা এখন হাফ কেজি নিচ্ছেন।”
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে মাছ ও মুরগিও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী মুরগি মানভেদে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের রুই মাছ ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকায়, মাঝারি আকারের কাতল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের তেলাপিয়া মাছ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে ডিমের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বাজারগুলোতে খোলা আটা ও দেশি মসুর ডাল এখনো উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং দেশি (ছোট দানা) মসুর ডাল ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, আমদানিকৃত রসুন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, দেশি আদা ২০০ থেকে ২২০ টাকা ও চায়না আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন