খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
চীনের তিয়ানজিন শহরে ৩০ লাখ ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা) মূল্যের সম্পত্তি নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে শুরু হওয়া আইনি লড়াই এক চমকপ্রদ মোড় নিয়েছে। মামলার একপর্যায়ে প্রকাশ্যে আসে, তাদের কেউই আসলে মৃত বাবা-মায়ের জৈবিক সন্তান নন—দুজনকেই দত্তক নেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এ খবর জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
ঘটনার সূত্রপাত গত মার্চে, পরিবারের প্রধান সান মারা যাওয়ার পর। তাঁর স্ত্রী বেশ কয়েক বছর আগেই মারা গিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে সান একটি বিবৃতি রেখে যান এবং বাড়ির মালিকানা শুধু তাঁর ছেলের নামে লিখে দেন।
বিবৃতিতে ছেলেকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘আমাদের মেয়ে দত্তক নেওয়া হলেও আমরা তাকে নিজের সন্তানের মতোই দেখেছি। শেষ বয়সে আমাদের দেখভাল করেছে ছেলে। তাই আমরা বাড়িটি তাকে দিয়েছি। সে তার বোনকে ক্ষতিপূরণ দেবে—এই আমাদের ইচ্ছা।’
তবে এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান বোন। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র বাবার সইযুক্ত দলিল দিয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর বৈধ নয়—কারণ মায়ের অংশও উত্তরাধিকার হিসেবে গণ্য হবে।
জানা যায়, মেয়েটিকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল ১৯৬৬ সালে। এরপর সাত বছর পর জন্ম হয় সান দম্পতির ছেলের। দুই ভাই-বোন একসঙ্গে বড় হন। বিবাদের জেরে মামলাটি গড়ায় তিয়ানজিনের নানকাই জেলা আদালতে।
শুনানির সময় বোন আদালতে পারিবারিক নিবন্ধনের একটি নথি তুলে ধরেন, যেখানে দেখা যায়—ভাইকেও দত্তক নিয়েছিলেন তার বাবা-মা! ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভাই।
তিনি বলেন, ‘১৯৯০-এর দশকে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের পর বোন সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। সেই থেকে মা-বাবার সেবা আমি একাই করেছি। তাই সম্পত্তি ছাড়তে পারি না।’
তবে আদালতের বিচারক জানান, চীনের সিভিল কোড অনুযায়ী, দত্তক সন্তানদের উত্তরাধিকার পাওয়ার অধিকারও সমান। তবুও, যেহেতু ২০০৭ সালেই বাড়িটি আইনি প্রক্রিয়ায় ভাইয়ের নামে হস্তান্তর হয়েছিল, তাই সেটি উত্তরাধিকার বিতর্কের আওতায় পড়ে না।
তিন ঘণ্টার তীব্র মধ্যস্থতার পর আদালতে সমঝোতায় পৌঁছান ভাই-বোন। সিদ্ধান্ত হয়, বাড়িটির মালিকানা ভাইয়ের কাছেই থাকবে। তবে বোনকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ ৫০ হাজার ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৫ লাখ টাকা) পরিশোধ করতে হবে।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, ‘দুজনই দত্তক। কিন্তু শুধু ছেলেকে সেটি জানানো হয়নি। তাকে জৈবিক সন্তানের মতো বড় করা হয়েছে। ফলে সম্পত্তি নিয়ে বিভেদ হওয়াটা স্বাভাবিক।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘এমন নাটকীয় ঘটনা তো শুধু টিভি নাটকে দেখা যায় ভেবেছিলাম!’
এই বিতর্ক চীনের উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা এবং পারিবারিক গোপন সংস্কৃতি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআই