খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
২০২৫ সালের বিপিএল-এ ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সন্দেহ তালিকায় নাম ওঠার পর এনামুল হক বিজয়কে ২০২৬ সালের বিপিএল-সহ চলমান ঘরোয়া বড় টুর্নামেন্টগুলোতে খেলতে দেওয়া হয়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের হয়ে খেলা এই উইকেটকিপার-ব্যাটারের জন্য এটি এক গভীর আঘাত হিসেবে বিবেচিত।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলমান বিসিএল ফাইনাল-এর সময় বিজয় সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে নিজের মনোভাব প্রকাশ করেন। ৩৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জানান, তিনি সম্মান ফিরে না পেলে আর কখনও ক্রিকেট খেলবেন না।
বিজয় বলেন,
“সম্মানের জন্য ক্রিকেট খেলছি, টাকার জন্য নয়। আমাকে সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে। সম্মান ফেরত না দিলে আর খেলব না। যারা আমাকে সন্দেহের তালিকায় রাখেছে, তাদের স্পষ্টভাবে প্রমাণ দেখাতে হবে। এতদিন ঝুলে থাকা যথেষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “বিসিবি যখন পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করবে যে আমি অপরাধী নই, তখন আমি আবার খেলব। বর্তমানে কোনো খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছি না। সমস্ত ভুল বোঝাবুঝি দূর হওয়া প্রয়োজন।”
বিজয়ের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৭৭টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে সম্মান ফিরিয়ে দেবেন না এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানাবেন যে তিনি কোনো অনৈতিক কাজ করেননি, ততক্ষণ খেলবেন না।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বয়স | ৩৩ বছর |
| অবস্থান | উইকেটকিপার-ব্যাটার |
| আন্তর্জাতিক ম্যাচ | ৭৭ টি (তিন সংস্করণ মিলিয়ে) |
| ২০২৫ বিপিএল অবস্থা | ম্যাচ ফিক্সিং সন্দেহ তালিকায় নাম |
| ২০২৬ বিপিএল অবস্থা | খেলতে অনুমতি হয়নি |
| অন্য ঘরোয়া টুর্নামেন্ট | অদম্য বাংলাদেশ টি২০ কাপ, বিসিএল – খেলার অনুমতি হয়নি |
| অবস্থান সম্পর্কিত দাবি | সম্মান ফেরত না হলে খেলবেন না |
বিজয় যোগ করেন, “আমি ক্রিকেট খাইনি কোনো টাকার জন্য; খেলেছি দেশের জন্য। যদি আমাকে ভুলভাবে সন্দেহ করা হয়, তাহলে সবার সামনে সত্য প্রকাশ করা হোক। এতদিন ধৈর্য্য রেখেছি, কিন্তু এবার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেছেন, “আমি এখনো দেশের হয়ে খেলার মানসিকতায় আছি। তবে সম্মান ফেরত পাওয়ার আগে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করব না। আশা করি বোর্ড বিষয়টি দ্রুত সমাধান করবে।”
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের শৃঙ্খলা, খেলোয়াড়ের অধিকার ও বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। অনেকে মনে করছেন, খেলোয়াড়দের সম্মান বজায় রাখাই দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের জন্য অত্যন্ত জরুরি।