খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ মে ২০২৫
কুষ্টিয়ায় সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগে শারমিন সুলতানা নামের এক নারী চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৫ মে) দুপুরে ভুক্তভোগীরা শহরের লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শারমিন সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখে আসছিলেন। সেই সুবাদে পরিচয়ের ভিত্তিতে তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে সরকারি চাকরি, জমি, ঘরবাড়ি ও ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর এলাকার সুমি খাতুন বলেন, ‘ডাক্তার শারমিনের সঙ্গে আমার কয়েক বছরের পরিচয়। ৭-৮ মাস আগে তিনি আমাদের সরকারি চাকরি, জমি, ঘরবাড়ি ও ভাতার ব্যবস্থা করে দেবেন বলে টাকা নেন। এখন আমরা প্রতারিত হয়েছি। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং আমাদের টাকা ফেরত চাই।’
চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার সালমা খাতুনও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, ‘ডাক্তার শারমিন আমাদের নানা প্রলোভন দিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, আমরা আমাদের টাকা ফেরত পেতে চাই।’
অন্যদিকে চিকিৎসক শারমিন সুলতানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি। আজ দুপুরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে একদল মানুষ আমাকে মারধর করে এবং গহনা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।’
ঘটনার বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চিকিৎসককে উদ্ধার করে থানায় আনে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন নারী প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি