খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার রাজশাহীর মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে মিজানুর রহমান মিনু আজ এক অনন্য উচ্চতায় আসীন। সম্প্রতি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এটি কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘ ৪৬ বছর পর রাজশাহী সদর আসন থেকে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধির পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
১৯৫৮ সালের ৭ জানুয়ারি রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করা মিজানুর রহমান মিনু ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি প্রদর্শন করেন। রাজশাহী কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন ‘জাগোদল’ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তরুণ মিনু সেই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি যুবদলের রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে মাঠপর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করেন। একসময় বাইসাইকেলে চড়ে গ্রাম-গঞ্জে সাংগঠনিক কাজ করা এই নেতা বহুবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, জেল খেটেছেন, কিন্তু আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
মিজানুর রহমান মিনুর রাজনৈতিক পরিক্রমা:
| পর্যায়/পদ | বিবরণ |
| সর্বকনিষ্ঠ মেয়র | ১৯৯১ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজশাহী সিটির মেয়র নির্বাচিত। |
| দীর্ঘতম মেয়রকাল | একটানা ১৭ বছর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালন। |
| সংসদ সদস্য | ২০০১ সালে রেকর্ড ভোটে জয়ী এবং ২০২৬ সালে পুনরায় নির্বাচিত। |
| দলীয় পদ | বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমানে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। |
| বর্তমান পদ | ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী (ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ শপথ গ্রহণ)। |
মিজানুর রহমান মিনুকে বলা হয় ‘আধুনিক রাজশাহীর রূপকার’। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকাকালে তিনি শহরটিকে একটি পরিকল্পিত শিক্ষানগরী ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে রাজশাহীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বিশ্ববাসীর নজরে আসে।
তার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০০৪ সালে, যখন জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (UNESCO) রাজশাহীকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মহানগরী’ হিসেবে ঘোষণা করে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে যায়। তার সময়েই রাজশাহী একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে পূর্ণতা পায়, যার সুফল আজ নগরবাসী ভোগ করছেন।
রাজশাহীর মানুষের কাছে তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে ‘মিনু ভাই’ হিসেবে পরিচিত। তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা। তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং তার দুয়ার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ রিকশাচালক—সবাই তার কাছে সরাসরি গিয়ে দুঃখ-সুখের কথা বলতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিনুর এই ‘সাবলীল জনসংযোগ’ এবং ‘মিষ্টি হাসি’ই তার রাজনৈতিক সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বা ‘ম্যাজিক’।
১৯৭৯ সালে এমরান আলী সরকার রাজশাহী সদর থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ ৪৬ বছর এই অঞ্চলের মানুষ একজন পূর্ণমন্ত্রীর অভাব বোধ করেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতো একটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দিয়েছেন।
রাজশাহীর মানুষের প্রত্যাশা, তার হাত ধরে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং উত্তরবঙ্গের ঝুলে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং কৃষক দল নেতা শফিকুল আলম সমাপ্তের মতে, মিনুর সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি মমত্ববোধ তাকে একজন সফল মন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। ভূমিহীনদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়তে মিনুর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে দেশবাসী আশাবাদী।