খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের এক সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন নাম, প্রবীণ সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল আর নেই। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তাঁর প্রয়াণে সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ জোহর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনেও দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। জাকারিয়া কাজলের ছোট ভাই মোহাম্মদ সোহেল জানান, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীরা জানাজায় অংশগ্রহণ করে এই বরেণ্য সাংবাদিককে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।
দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন জাকারিয়া কাজল। লিভার ও কিডনি সমস্যার পাশাপাশি হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসও তাঁকে দুর্বল করে তুলেছিল। নিয়মিত চিকিৎসা ও হাসপাতাল যাতায়াতের মধ্যেই কাটছিল তাঁর শেষ সময়গুলো। এসব অসুস্থতার মধ্যেও তিনি সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা ধরে রেখেছিলেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
জাকারিয়া কাজল ১৯৫৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। দৈনিক আজাদ ও ইনকিলাবের মতো ঐতিহ্যবাহী পত্রিকায় কাজ করার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন বিকশিত হয়। পরবর্তীতে তিনি অবজারভার ও অনলাইন গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন, যেখানে তাঁর পেশাদারিত্ব ও অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জাকারিয়া কাজলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, দেশের সাংবাদিকতা জগত একজন নিষ্ঠাবান ও অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শককে হারাল। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
ব্যক্তিজীবনে জাকারিয়া কাজল ছিলেন বিনয়ী ও স্নেহশীল মানুষ। তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা সাংবাদিক সমাজ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হলো।
নিচে সংক্ষেপে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | জাকারিয়া কাজল |
| জন্ম | ১৬ ডিসেম্বর ১৯৫৯ |
| জন্মস্থান | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| মৃত্যু | ৬ ফেব্রুয়ারি |
| বয়স | ৬৭ বছর |
| পেশা | সাংবাদিক |
| কর্মস্থল | দৈনিক আজাদ, ইনকিলাব, অবজারভার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, যমুনা টেলিভিশন |
| সর্বশেষ পদ | হেড অব নিউজ, যমুনা টেলিভিশন |
| দাফন | বনানী কবরস্থান |
জাকারিয়া কাজলের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন ও অবদান দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক গুণাবলি সহকর্মীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।