খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বব্যাপী সাইবার বীমা ও পুনর্বীমা বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং একই সঙ্গে ঝুঁকির ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাইবার বীমার মোট গ্রস রিটেন প্রিমিয়াম (GWP) ২০২০ সালের প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২০২৬ সালে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পুনর্বীমা পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান গ্যালাঘার রি-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এই দ্রুত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বীমা ও পুনর্বীমা খাতে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে—ঝুঁকি ধরে রাখার প্রবণতা বৃদ্ধি এবং কোটা-শেয়ার সিডিং কমে যাওয়া। এর ফলে অতিরিক্ত ক্ষতি (Excess of Loss) পুনর্বীমার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দশকের শেষ নাগাদ বছরে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
গ্যালাঘার রি তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন “Cyber and Property Combined Covers: Buying the Tail More Efficiently”-এ বলেছে, সাইবার ঝুঁকি এখন আর কেবল প্রযুক্তি-নির্ভর আলাদা ঝুঁকি নয়; এটি বৈশ্বিক বীমা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধরনের অস্থিরতার উৎস হয়ে উঠেছে। এমনকি এটি এখন প্রচলিত প্রপার্টি ক্যাটাস্ট্রফি বা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির সমপর্যায়ে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাইবার ঝুঁকির অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য সিস্টেমিক ক্ষতির কারণে পুনর্বীমাকারীরা এখনো পৃথক সাইবার কভারেজে তুলনামূলকভাবে উচ্চ প্রিমিয়াম দাবি করছে। তবে একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে উঠে আসছে সাইবার ও প্রপার্টি ক্যাটাস্ট্রফি ঝুঁকিকে একত্রিত করে “শেয়ার্ড লিমিট স্ট্রাকচার” তৈরি করা। এতে একই পলিসির অধীনে দুই ধরনের ঝুঁকি কাভার করা সম্ভব হয় এবং মোট মূলধন খরচ কমে যায়।
গ্যালাঘার রি-এর হিসাব অনুযায়ী, এই সমন্বিত কাঠামো ব্যবহার করলে বীমা কোম্পানিগুলোর খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। কারণ সাইবার ও প্রপার্টি ঝুঁকির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক (correlation) তুলনামূলকভাবে কম, ফলে একই মূলধন দিয়ে বেশি কার্যকরভাবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়।
নিচে বাজারের বর্তমান ও সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা হলো—
| সূচক | ২০২০ | ২০২৬ | ২০৩০ (প্রক্ষেপণ) |
|---|---|---|---|
| সাইবার GWP বাজার | ৮ বিলিয়ন ডলার | ১৬ বিলিয়ন ডলার | ২৬ বিলিয়ন ডলার |
| Excess of Loss চাহিদা | — | বৃদ্ধি পাচ্ছে | ~৯ বিলিয়ন ডলার/বছর |
| ILS বাজারের আকার | — | ১২৮ বিলিয়ন ডলার (২০২৫) | আরও সম্প্রসারণ প্রত্যাশিত |
| সম্ভাব্য খরচ সাশ্রয় | — | ২৫% (কম্বাইন্ড কভার) | ২০% (ILS কাঠামো) |
গ্যালাঘার রি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই দক্ষতার পরবর্তী ধাপ আসবে ইন্স্যুরেন্স-লিংকড সিকিউরিটিজ (ILS) বাজার থেকে। এই বাজারে ইতোমধ্যেই সাইবার ক্যাটাস্ট্রফি বন্ড দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ILS বাজারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা (Assets Under Management) দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৮ বিলিয়ন ডলারে।
২০২৬ সালে বীমা প্রতিষ্ঠান Beazley কর্তৃক ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সাইবার ক্যাটাস্ট্রফি বন্ড ইস্যু এখন পর্যন্ত এই খাতের সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে সাইবার ঝুঁকিকেও বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ শ্রেণি হিসেবে গ্রহণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাইবার ও প্রপার্টি ঝুঁকি একত্রিত করে ILS বাজারে আনলে অতিরিক্ত প্রায় ২০ শতাংশ খরচ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এটি পুনর্বীমা বাজারের মূলধনের ওপর চাপ কমাবে এবং ঝুঁকি বৈচিত্র্যকরণে সহায়তা করবে।
গ্যালাঘার রি মনে করে, সাইবার ঝুঁকির দ্রুত বৃদ্ধি আগামী দিনে বৈশ্বিক বীমা খাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠবে। তাই প্রচলিত পুনর্বীমা কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন সমন্বিত মডেল গ্রহণই হতে পারে ভবিষ্যতের কার্যকর সমাধান।