খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৭ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কক্সবাজার ভ্রমণের কারণে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পাঠানো শোকজের লিখিত জবাব দিয়েছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর দেওয়া ওই ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন তিনি।
জবাবে তিনি লিখেছেন, ‘ঘুরতে যাওয়া অপরাধ নয়। কারণ ইতিহাস কেবল মিটিংয়ে নয়, অনেক সময় নির্জন চিন্তার ঘরে বা সাগরের পাড়েও জন্ম নেয়।’
তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্ট তার কোনও পূর্বনির্ধারিত রাষ্ট্রীয় বা সাংগঠনিক কর্মসূচি ছিল না। দল থেকেও তাকে এ বিষয়ে কোনও দায়িত্ব বা কর্মপরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি।
পাটওয়ারী জানান, ৪ আগস্ট রাতে দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ তার কোচিং অফিসের সহকর্মীর ফোন থেকে তাকে জানান যে, তিনি স্কুল বন্ধুদের সঙ্গে দুই দিনের সফরে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি হাসনাতকে দলের আহ্বায়ককে অবহিত করতে বলেন। পরে হাসনাত জানায়, তিনি বিষয়টি জানাবেন এবং পাটওয়ারীকেও জানাতে বলেন, কারণ তার নিজস্ব মোবাইল ফোনটি পদযাত্রায় চুরি হয়ে গিয়েছিল।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘একই রাতে আমি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানাই। সদস্য সচিব আখতার হোসেন মহোদয়ের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করি এবং জানতে পারি যে রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে দল থেকে তিনজন প্রতিনিধি যাচ্ছেন এবং সেখানে আমার কোনও দায়িত্ব নেই। সেই প্রেক্ষিতে আমি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ও মানসিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’
তিনি আরও জানান, তার সফরসঙ্গী ছিলেন সস্ত্রীক এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি লেখেন, ‘এই ঘোরার লক্ষ্য ছিল রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে একান্তে চিন্তা-ভাবনা করা। সাগরের পাড়ে বসে আমি গভীরভাবে ভাবতে চেয়েছি গণঅভ্যুত্থান, নাগরিক কমিটি, নাগরিক পার্টির কাঠামো, ভবিষ্যৎ গণপরিষদ এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধানের রূপরেখা নিয়ে।’
তিনি দাবি করেন, এটি কোনও অপরাধ নয় বরং একজন রাজনৈতিক কর্মীর জন্য এটি একটি ‘দায়িত্বশীল মানসিক চর্চা।’
তবে সফরের সময় হঠাৎ একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, তারা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে দেখা করতে কক্সবাজার গেছেন। পাটওয়ারী তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমে এই খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়, ‘হোটেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, সেখানে পিটার হাস নামে কেউ নেই। পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, তিনি তখন ওয়াশিংটনে অবস্থান করছিলেন। এই গুজব একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা।’ তিনি যোগ করেন, অতীতেও তিনি ওই হোটেলে অবস্থান করেছেন এবং কখনও এমন বিতর্ক হয়নি।
নিজেকে আরও নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, ‘অতীতেও আমি বেশ কয়েকবার ঘুরতে গিয়েছি। কিন্তু ঘুরতে আসলে দলের বিধিমালা লঙ্ঘন হয়, এমন কোনো বার্তা আমাকে কখনও দল থেকে দেওয়া হয়নি।’
সবশেষে তিনি মন্তব্য করেন, ‘শোকজ নোটিশটি বাস্তবভিত্তিক নয়। আমার সফর ছিল স্বচ্ছ, সাংগঠনিক নীতিমালাবিরোধী নয় এবং একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনার সুযোগ মাত্র। তবুও দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রেখে আমি এই লিখিত জবাব প্রদান করছি—অসভ্য জগতে সভ্যতার এক নিদর্শন হিসেবে।’
উল্লেখ্য, কক্সবাজার সফরের কারণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের আরও চার নেতা—সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, তাসনিম জারা ও খালেদ সাইফুল্লাহকে শোকজ করেছে এনসিপি। তাদের প্রতি আলাদা শোকজ নোটিশের কপি দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করা হয়েছে।