খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
আফ্রিকান ফুটবলের দুই মহাতারকা—সাদিও মানে এবং মোহাম্মদ সালাহ। ফুটবল বিশ্ব আরও একবার এই দুই বন্ধুর ধ্রুপদী লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিল আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) সেমিফাইনালে। তবে বুধবার রাতের সেই দ্বৈরথে শেষ হাসি হাসলেন সাদিও মানে। সাদিও মানে’র বিধ্বংসী একমাত্র গোলে মিশরকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে প্রতিযোগিতার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল। এই হারের মাধ্যমে আরও একবার বড় কোনো টুর্নামেন্টে মানের কাছে হার মানতে হলো সালাহর মিশরকে। আগামী রবিবার ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোর মুখোমুখি হবে সেনেগাল।
ম্যাচটির পরিসংখ্যান ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ফলাফল | সেনেগাল ১ – ০ মিশর |
| গোলদাতা | সাদিও মানে (৭৮ মিনিট) |
| বলের দখল | সেনেগাল ৬৫%, মিশর ৩৫% |
| ফাইনাল প্রতিপক্ষ | মরক্কো |
| ভেন্যু | টাঞ্জিয়ার, মরক্কো |
| সাসপেনশন (সেনেগাল) | কালিদু কুলিবালি ও হাবিব দিয়ারা |
ম্যাচটি খুব একটা দৃষ্টিনন্দন ছিল না। পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে ফুটবলের চেয়ে ফাউল, সময়ক্ষেপণ এবং রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন খেলোয়াড়রা। বিশেষ করে মিশরের অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল ম্যাচের জৌলুস কমিয়ে দেয়। তিনজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার এবং দুজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নিয়ে মিশর মূলত গোল ঠেকানোর পণ করেই মাঠে নেমেছিল। সালাহ ও মারমুশের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় থাকলেও মিশরের পুরো পরিকল্পনায় আক্রমণের কোনো ছাপ ছিল না। সেনেগাল দুই-তৃতীয়াংশ সময় বল দখলে রাখলেও মিশরের জমাট রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছিল।
ম্যাচের ৭৮ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ল্যামিন কামারার একটি শট হামদি ফ্যাথির গায়ে লেগে সাদিও মানে’র সামনে চলে আসে। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মানে এক দুর্দান্ত জোরালো শটে মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়িকে পরাস্ত করেন। মিশর হ্যান্ডবল এবং অফসাইডের আবেদন জানালেও রিপ্লেতে দেখা যায় বল মানের বুকে লেগেছিল এবং কোনো অফসাইড ছিল না। এই এক গোলেই মিশরের বিদায় ঘণ্টা বেজে যায়।
মোহাম্মদ সালাহর জন্য দিনটি ছিল হতাশার। ক্লাবের হয়ে সব জেতা এই মহাতারকার জাতীয় দলের হয়ে ট্রফি জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। ২০২১ সালের আফকন ফাইনাল এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পর এবারও মানের কাছে হারতে হলো তাঁকে। অন্যদিকে, মিশরের কোচ হোসাম হাসানের ভবিষ্যৎ এখন সংকটের মুখে। টুর্নামেন্ট চলাকালীনই কিংবদন্তি গোলরক্ষক এসাম এল হাদারি সহ অনেক বিশেষজ্ঞ তাঁর রক্ষণাত্মক কৌশলের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। সেমিফাইনালে এমন লক্ষ্যহীন ফুটবল তাঁর বিদায় নিশ্চিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জয় পেলেও ফাইনালের আগে সেনেগাল শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। অধিনায়ক কালিদু কুলিবালি ও মাঝমাঠের হাবিব দিয়ারা কার্ড সমস্যার কারণে ফাইনালে খেলতে পারবেন না। বিশেষ করে কুলিবালির অনুপস্থিতি রক্ষণে বড় শূন্যতা তৈরি করতে পারে। তবে সেমিফাইনালে ল্যামিন কামারার অন্তর্ভুক্তি সেনেগালের মাঝমাঠে যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে, তা মরক্কোর বিপক্ষে ফাইনালে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।