খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১০৭ শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে ভর্তি করার অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামান এবং প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগমসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (৬ এপ্রিল ) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপপরিচালক মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মামলার আসামিরা হলেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামান, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতিঝিল শাখার সাবেক অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম, গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. শহীদুল ইসলাম, গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য গোলাম আশরাফ তালুকদার, স্কুলের সাবেক অভিভাবক সদস্য (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. মুজিবুর রহমান, সাবেক অভিভাবক সদস্য (মাধ্যমিক) মো. আব্দুর রব মিয়া, সাবেক অভিভাবক সদস্য (প্রাথমিক) মোহাম্মদ আলী, গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য (সংরক্ষিত) আজিজা বেগম, গভর্নিং বডির সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি (উচ্চ মাধ্যমিক) মুনিরজাদী কাফিয়া আলম, প্রাক্তন সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি (মাধ্যমিক) ও সহকারী শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা এবং গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য মাকসুদা আক্তার।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে মতিঝিল শাখায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ১১ ধাপে ১০৭ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। অভিযুক্তরা ভুয়া কোটা তৈরি করে এই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, যার ফলে প্রকৃত যোগ্য শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাবেক অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগমের বিরুদ্ধে ভর্তি ও ফরম পূরণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ‘বিশেষ বিবেচনায়’ উত্তীর্ণ দেখানোর জন্যও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, শিক্ষার্থীপ্রতি চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে তা পরে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হতো।
এ ছাড়া, ২০২০ সালে বনশ্রী শাখায় ‘বিশেষ ক্লাসের’ নামে বাধ্যতামূলক অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুদক অভিযান চালায় এবং প্রাথমিক সত্যতা পায়। ২০১৯ সালেও ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্রে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড থেকে অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
খবরওয়ালা/আরডি