খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ফেক আইডি ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য প্রচার এবং রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনদের চরিত্রহনন এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। কটূক্তি, অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য এখন লাগামহীন। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিপফেক ভিডিও ও ভুয়া ছবি তৈরি করা হচ্ছে।
একটি রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ফেক আইডি খুলে প্রতিপক্ষের নেতাদের চরিত্রহননের পরামর্শ দিয়েছে। এর জবাবে অন্য দলও তাদের কর্মীদের সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হতে বলেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক সজ্জন ব্যক্তি দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে পোস্ট দিতে ভয় পাচ্ছেন। তাদের মতে, ফেসবুক এখন মূর্খ ও ইতরদের দখলে চলে গেছে এবং এটি একটি পাবলিক টয়লেটের দেয়ালের মতো।
এই পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তারাও উদ্বিগ্ন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এআই ও সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার এবং নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালন করানোকে আসন্ন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন। সরকারও সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণে ‘কাউন্টার ন্যারেটিভ’ প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, মূর্খ ও বেয়াদবদের ট্রলিংয়ের কারণে তিনি এখন রাজনৈতিক বিষয়ে পোস্ট দেওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই প্ল্যাটফর্ম মূর্খ ও ইতরদের দখলে চলে গেছে, যারা উগ্র, ধর্মোন্মাদ, সাম্প্রদায়িক এবং নারীবিদ্বেষী।
একজন নারী সাংবাদিক রাজনৈতিক স্লোগানে ব্যবহৃত অশ্লীল ভাষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই কদর্যতা শিশুদের মনকেও কলুষিত করছে। একজন অভিনেত্রীও একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এখন রাজনৈতিক স্লোগান শুনলে তিনি লজ্জায় মাথা নত করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম খান এই পরিস্থিতিকে ‘শব্দ সন্ত্রাস’ বা শাব্দিক সন্ত্রাস বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সমাজে অসহিষ্ণুতা এবং সামগ্রিক সহিংসতা বেড়েছে, যার সঙ্গে শাব্দিক সন্ত্রাসও বেড়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েই মানুষ গালিগালাজের আশ্রয় নিচ্ছে। এটি পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুতর অবনমন ঘটাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন নাসের বলেন, কিছু তথাকথিত রাজনীতিবিদ এমনটা করছেন এবং একটি গোষ্ঠী অনলাইনে বাজে কথা ছড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা রিউমার স্ক্যানারের মতে, দেশে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া ও মিথ্যা তথ্যের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত মাসে সংস্থাটি ৩১০টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে প্রায় ৫৯ শতাংশই ছিল রাজনৈতিক। এসব ভুয়া তথ্যের মধ্যে ভিডিওকেন্দ্রিক ভুলই ছিল সবচেয়ে বেশি। প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন