খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরপর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে সারাদেশে পুলিশের সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরই এ নির্দেশ জারি করা হয়। নির্দেশনার পর থেকেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য হামলা বা নাশকতা ঠেকাতে মৌখিকভাবে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, নির্দেশনা পাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত টহল দেওয়া হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন লাগার পরপরই সব কেপিআই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও নিজ নিজ এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, “দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় সারা বছরই নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা থাকে। কেপিআই এলাকাগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”
বর্তমানে সারাদেশে বঙ্গভবন, গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বিমানবন্দর, সচিবালয়, বিটিভি, কারাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মোট ৫৮৭টি কেপিআই রয়েছে। এসব স্থাপনার নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানের জন্য সরকারের একটি বিশেষ নীতিমালা কমিটি কাজ করছে।
এদিকে, শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, সরকার তা গভীরভাবে অবগত এবং নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে চায় যে—নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা খতিয়ে দেখছে। মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। কোনো উসকানি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
অন্তর্বর্তী সরকার সতর্ক করে জানায়, “যদি এসব অগ্নিকাণ্ড নাশকতা হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং এর উদ্দেশ্য হয় জনমনে আতঙ্ক বা বিভাজন সৃষ্টি করা—তবে তারা সফল হবে কেবল তখনই, যখন আমরা ভয়কে আমাদের বিবেচনা ও দৃঢ়তার ওপর প্রাধান্য দিতে দেব।”
বিবৃতির শেষে সরকার সকল নাগরিককে ঐক্য, সংযম ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলায় আহ্বান জানিয়ে বলে, “বাংলাদেশ অতীতেও কঠিন সময় অতিক্রম করেছে; গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে এই চ্যালেঞ্জও আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে পার হব। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”