ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনের ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রভাব বিস্তার ও নির্বাচনী কারচুপির চেষ্টার অভিযোগে বিএনপির এক স্থানীয় নেতা ও তার সমর্থকসহ তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সালথা উপজেলার ইউসুফদিয়া, নারানদিয়া ও জয়ঝাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— গট্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালাম মিয়া, বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত মো. রবিউল মিয়া এবং ১১ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ‘রিকশা’ প্রতীকের সমর্থক আমজাদ হোসেন। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তারা পৃথক তিনটি কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন এবং কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে নিরুৎসাহিত বা বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা জানান, দুপুরের দিকে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি ভোটারদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এতে কেন্দ্রে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনজনকে আটক করেন।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।”
ফরিদপুর-২ আসনে এবারের নির্বাচন শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং রিকশা প্রতীকে আল্লামা শাহ আকরাম আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ থাকলেও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আসন | ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) |
| আটক সংখ্যা | ৩ জন |
| আটক স্থান | ইউসুফদিয়া, নারানদিয়া ও জয়ঝাপ কেন্দ্র |
| অভিযোগ | প্রভাব বিস্তার ও কারচুপির চেষ্টা |
| মোতায়েন বাহিনী | সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ |
| আইনি পদক্ষেপ | ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রক্রিয়াধীন |
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যেকোনো অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।